আতিউর রহমান (দিনাজপুর২৪.কম) বিরলে বেদানা চাষে সাফল্যের দাড়প্রান্তে উপজেলার রাণীপুকুর ইউপি’র জগতপুর গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক। তাঁর বাগানের প্রতিটি গাছ ফুলে ফুল ছেয়ে গেছে, ফল আসতে আর সামান্য অপেক্ষা। উপজেলায় এটিই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে বেদানা বাগান। বাগানটি তৈরীতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শহিদুল ইসলাম সার্বিক পরামর্শ দিয়ে চলছেন।
কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বাজারে বড় বড় বেদানা দেখে তিনি এটা কিভাবে উৎপাদন করা যায় তা ভাবতে শুরু করেন। আগে থেকেই তিনি সিটি মরিচ, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, ঢেড়স প্রভূতি আবাদ করে স্বল্প ব্যয়ে অধিক আয় করেন। তাই তিনি ইতিমধ্যে আপেল এর ৪টি চারা গাছ, কমলার ৮টি চারা গাছ ও আঙ্গুরের একটি গাছ রোপন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণের দারস্থ হলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শহিদুল ইসলাম তাঁকে বেদানা থেকে বীজ সংগ্রহ ও রোপনের পরামর্শ প্রদান করেন। প্রথমে তিনি বাজার থেকে বড় আকারের বেদানা সংগ্রহ করে তাঁর স্বাদ গ্রহণ করে ভাল মনে হওয়ায় সেই বেদানার বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। পরে সেই চারাগাছ ৪ কাঠা জমিতে রোপন করেন। গত জানুয়ারি/২০১৭ মাসে চারা গাছ রোপনের দীর্ঘ ১১-১২ মাস পর তিনি সেই চারাগাছগুলোতে ফুল দেখতে পেয়েছেন। কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনায় নিয়মিত ভাবে খৈল, ছত্রাকনাশক, কীটনাশকসহ জৈব সার প্রয়োগ করে পরিচর্যা করায় বাগানের প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল ফুটেছে। এই ফুলগুলো পাখি এসে অধিকাংশ সময় নষ্ট করায় তা থেকে বাঁচতে বাগানের চারপাশসহ উপরে নেট দিয়ে প্রতিরক্ষার জাল বুনেছেন। তিনি এ পর্যন্ত ৪ কাঠা জমিতে ৪০টি বেদানা গাছ রোপন করে পরিচর্যায় প্রায় ৮ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। আশানুরূপ ফল পাওয়া গেলে প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকার ফল বিক্রির তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলায় কমলা, মাল্টা, ষ্ট্রবেরী, ড্রাগনসহ বিভিন্ন নতুন আঙ্গিকের ফল চাষাবাদে কৃষকদের উদ্ধুত করতে উপজেলা কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে পরীক্ষামূলকভাবে বেদানা চাষে এই কৃষকের আগ্রহ থেকে সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন এর মাধ্যমে পরিচর্যায় তিনি পরামর্শ দিয়ে চলছেন। আর ৪ থেকে ৫মাসের মধ্যে এই বাগানে আশানুরূপ বেদানা উৎপাদন হতে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
তাই আগামী মে-জুন মাসেই বিরলে প্রথম উৎপাদিত বেদানা পেতে যাচ্ছে বিরলবাসী। এছাড়াও প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে ছুটে আসছেন সিদ্দিকের এই বেদানা বাগান এক পলক দেখার জন্য। অপরদিকে, এই বেদানা বাগান এলাকার মডেল হিসাবে গ্রহণ করে অনেকে বেদানা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।