(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর ফুলবাড়ী উপজেলায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক, এক সময়ের সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের চাষ এখন বিলুপ্তির পথে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি জমি অকৃষিতে পরিণত হওয়া, স্বল্প সময়ে জমিতে অধিক ফসল ফলানোর প্রবণতা, পাট পচনের পানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পাট চাষ যেন এখন কৃষকের অনিহা আর অবহেলার একটি অংশ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে পাটের দরপতন, উৎপাদন খরচ বেশী ও পাট ছড়ানো পানির অভাবে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ১ বিঘা জমিতে ৭ থেকে ৮ মন পাট উৎপাদন হয়। আর প্রতি মণ পাট সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এক্ষেত্রে বাজার মূল্য হিসেবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ৬০ এর দশকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল, আবার বড় বড় জুট মিলের চাহিদা পূরণে কৃষকরা পাট চাষে ব্যাপক লাভবান হতো। অপরদিকে ক্রয় কেন্দ্রগুলো পাট সংগ্রহ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করত। ফলে ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে কৃষকরাও ঝুকে পড়তো ব্যাপকভাবে পাট চাষে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কিছু কিছু জমিতে তোশা পাট ৯৫ হেক্টর, দেশি পাট ৪০ হেক্টরসহ মোট ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ আবাদ লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও এবার ১৩৫ হেক্টরে নেমে আসায় গত বছরের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। এভাবে দিন দিন পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষক।
এদিকে অল্প সংখ্যক কৃষক যারা পাট চাষ করছেন, জৈষ্ঠ মাস শেষ হয়ে এলেও তেমন বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় ও এলাকার বেশিরভাগ খাল, বিল শুকিয়ে যাওয়ায় চিন্তিত কৃষক। পানি না থাকায় পাট পচানো নিয়ে শঙ্কায় কৃষক, এতে পাটের গুনগতমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান কৃষকরা।
উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মোন্নাফ জানান, বর্তমানে একজন দিনমজুরের দৈনিক হাজিরা ৩শ থেকে ৪শত টাকা। এক বিঘা জমির পাট কেটে তা জাগ দিয়ে শুকিয়ে ঘরে তুলতে যে পরিমাণ দিনমজুর লাগে তাতে পূর্বের খরচ মিলিয়ে মণপ্রতি পাটের দাম পড়ে ১ হাজার টাকার উর্দ্ধে। আবার পাট পচনের খালবিল গুলির মধ্যে কতগুলিতে পানি নেই, কোনো কোন খালগুলিতে মাছ চাষ করায় পানি নষ্ট হওয়ার আশংকায় পাট জাগদেয়া অনেক বড় সমস্যা তাই পাট চাষে তেমন আগ্রহ নেই তাদের। প্রতিবছর মনপ্রতি পাটের মূল্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ এবং বাজার মূল্য কম হওয়ায় আমরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। সুজাপুর ডবর ব্রীজ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত দু’বছর থেকে ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে পাট জাগ দেয়া পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তাই এখন কলা চাষ করি এতে পরিশ্রম কম লাভ বেশি। -ডেস্ক