বলিউড তারকা সালমান খান এবং ক্যাটরিনা কাইফের উপস্থিতিতে এবার বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা হয়েছে ভীষণ জমকালো আর বর্ণিল। মুম্বাই ফিরে গিয়ে সালমান খান জানিয়েছেন, ঢাকার অনুষ্ঠান তিনি ভীষণ উপভোগ করেছেন।

অনুষ্ঠানে আসার আগেই বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেলকে নাকি সালমান খান জানিয়ে রেখেছিলেন, স্টেডিয়ামে যাওয়ার পর অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের দুজনের দেখা করিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সালমান খান কোনো টাকা নিতে চাননি।

অনেকেরই হয়তো ধারণা বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সালমান খান নিশ্চয়ই বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়েছেন? এবিষয়ে শেখ সোহেল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, পারিশ্রমিকের প্রশ্নে সালমান যা বলেছেন তাতে তার প্রতি মুগ্ধতা বেড়ে যায়।

তিনি বললেন, ‘সালমান খান পারিশ্রমিক নিয়ে কখনোই কথা বলেনি। যখন টাকার আলাপ তুলেছি, আমার কাঁধে হাত দিয়ে হেসে বলেছেন, জীবনে টাকা কি সব? তুমি আমাকে এক কাপ চা বানিয়ে দিয়ো। ওটাই খাব। “দাবাং থ্রি” নিয়ে ওই সময় তিনি এত ব্যস্ত ছিলেন যে কোনো অনুষ্ঠানেই যাননি। ক্রিকেট আর বঙ্গবন্ধুর নাম শুনে আমাদের অনুষ্ঠানে আসতে রাজি হয়েছেন। কোনো টাকা নিতে চাননি। তা-ই নয়, ক্যাটরিনা কাইফকে বলেছেন, তুমিও কোনো পারিশ্রমিক নিয়ো না।

বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী সালমান খান এ ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত চার কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। শেখ সোহেল বললেন, ‘বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক টাকাও নিতে চাননি! বিসিবি অবশ্য সালমান খানের উদারতার সুযোগ নেয়নি। সালমান খানর দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দুই কোটি টাকার চেক দিয়েছে। ক্যাটরিনা কাইফকে দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকার চেক।’

অথচ সালমান খান নাকি শুরুতে ঢাকায় আসতে রাজি হতে চাননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জমকালো করার জন্য বিসিবি প্রথমে ভেবেছিল ক্যাটরিনা কাইফ, টাইগার শ্রফ আর অরিজিৎ সিংকে আনবে। পরে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। সিদ্ধান্ত হয় সালমান খানকে আনা হবে। বলিউডের ‘ভাইজান’কে রাজি করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেলকে।

শেখ সোহেল গত নভেম্বরে সালমান খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। কিন্তু প্রতিবার ‘না’ শুনতে হয়েছে সালমান খানের কাছ থেকে। কারণ তিনি তখন ‘দাবাং থ্রি’ সিনেমা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন (ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০ ডিসেম্বর)। অগত্যা শেখ সোহেল মুম্বাই যান। সালমান খানের সঙ্গে মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে সাক্ষাৎ হয় তার।

শেখ সোহেলকে সালমান খান জানান, ৮ ডিসেম্বর বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তখন ‘দাবাং থ্রি’ ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ হচ্ছে, পাশাপাশি ছবির প্রচার-প্রচারণা নিয়েও তিনি ব্যস্ত। শেখ সোহেল তাকে প্রস্তাব দেন, ‘মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য ঢাকায় এলেই চলবে। যাওয়া-আসা করবেন ভাড়া করা বিমানে।’ সালমান খান উল্টো প্রস্তাব দেন অনুষ্ঠান দুই দিন পিছিয়ে ১০ ডিসেম্বর করতে হবে। তাহলে তিনি ২ ঘণ্টা নয়, ২ দিন থাকতে পারবেন!

শেখ সোহেল তখন সালমানকে জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই বিপিএল আয়োজন করছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে। অনুষ্ঠানের সবকিছু প্রস্তুত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দাওয়াত দেওয়া হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে কিছুতেই অনুষ্ঠান পেছানো সম্ভব না।

বিসিবির আয়োজন আর বঙ্গবন্ধুর নাম শুনে সালমানের মন গলে যায়। ‘দাবাং’ ছবির তারকা বললেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভীষণ পছন্দ করি। সাকিব, মুশফিক, তামিমের খেলা ভালো লাগে। আর বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা। ঠিক আছে, যত কষ্ট হোক, আমি ঢাকায় যাব।’

সালমান খান তার ম্যানেজারকে ডেকে ‘দাবাং থ্রি’ ছবির ডাবিং ৮ ডিসেম্বর থেকে এগিয়ে ৭ ডিসেম্বর করতে বললেন। শেখ সোহেলের সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন দেন ক্যাটরিনা কাইফকে। বলিউডের এই নায়িকাকে বললেন তার সঙ্গে একই বিমানে ঢাকায় যেতে। ৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত ডাবিংয়ের কাজ শেষ করে ভোররাত চারটায় বিমানে ওঠেন তারা। ঢাকায় এসে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেন। সন্ধ্যায় ক্যাটরিনা কাইফকে সঙ্গে নিয়ে আসেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। সূত্র-প্রথম আলো