tanary-chamra-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) লবণের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মন্দার মধ্যে পড়েছে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার। গত ৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হয়েছে পশুর চামড়া। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এর আগে কখনও এত কম দামে চামড়া ক্রয় করনেনি বলে জানিয়েছেন তারা। সমপ্রতি চামড়া ব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড মার্চেন্ট এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয় সর্বোচ্চ ৫০ টাকা।
জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর পশুর চামড়ার বড় সংগ্রহ আসে কোরবানির ঈদে। আর এ সময়ে বাড়তি কিছু টাকা আয়ের আশায় অনেকেই নেমে পড়েন চামড়া ব্যবসায়। তবে এবার চামড়ার আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন এসব মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ট্যানারি মালিক ও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন মূল্যে কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে। এতে চামড়ার অর্থ থেকে দরিদ্র মানুষজন বঞ্চিত হয়েছেন। সাধারণত কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ দরিদ্রদের দান করা হয়।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মনে করেন, লবণের দাম বৃদ্ধির কারণে চামড়ার দাম কমেছে। তিনি বলেন, লবণের বাড়তি দাম সমন্বয় করাতে চামড়ার দামও খানিকটা কমে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩ বছর আগের কোরবানির ঈদে পশুর মালিক যে চামড়া বিক্রি করেছেন ২ হাজার ২০০ টাকায়, এবারের ঈদে তারচেয়ে বড় ও ভালোমানের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এছাড়া কোরবানি দেয়ার জন্য ক্রয় করা দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। আর এক লাখ টাকা দিয়ে কেনা গরুর চামড়া ৯০০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, আড়তদার ও পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা কমদামে চামড়া কিনেছি। গত ঈদে যে চামড়া ২ হাজার টাকায় কিনেছি, এবার সেই ধরনের চামড়া কিনেছি ১ হাজার ৩০০ টাকায়। তিনি বলেন, এবার সবচেয়ে বড় ও ভালো চামড়া ১ হাজার ৪০০ টাকায় পেয়েছি। কিন্তু কেনা মূল্যের চেয়েও কমদাম দিতে চাচ্ছেন আড়তদাররা।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লবণের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে গত বছরের চেয়ে এবার চামড়ার দাম ১০ শতাংশ হারে কম নির্ধারণ করেন ট্যানারি ব্যবসায়ীরা। গত বছর কোরবানির ঈদে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ বছর তা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, দাম কমিয়ে পরপর ৪ বছর দেশে চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৩ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ধরা হয়েছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। এ বছর সেই চামড়া সর্বোচ্চ ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে দাম ধরা হয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। আরেক মৌসুমী ব্যবসায়ী শহিদুল করিম বলেন, ট্যানারি মালিকদের নির্ধারণ করে দেয়া দামের বাইরে এবার কেউ একটি চামড়াও কিনছেন না। লবণের দাম ও শ্রমিকের খরচ ধরে সবাই চামড়া কিনছেন। তিনি বলেন, আমরা যে চামড়া ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনেছি, পাইকারি ব্যবসয়ীরাও এর দাম ১ হাজার ২০০ টাকায় নিতে চান। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ঈদে সবচেয়ে ভালো চামড়া সংগ্রহ করা গেছে দেড় হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এছাড়া বেশিরভাগ চামড়া ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনেছেন। তারা জানান, গত ৫ বছরে ৬০০ টাকায় কোনো গরুর চামড়া কেনা সম্ভব না হলেও এবার ৫০০ টাকায় বিপুল পরিমাণ গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। কোথাও কোথাও একশ’ বা দুইশ’ টাকায়ও গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে।
পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, আগে একটি বড় চামড়ায় ১০০ টাকার লবণ দিলে হতো। এবার ৩০০ টাকার লবণ দিতে হবে। এছাড়া ট্যানারি মালিকরা যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তার বাইরে গেলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিনি বলেন, অন্যান্য বছর কোরবানিতে নির্ধারণ করে দেয়া দামের চেয়ে বাজারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে চামড়া বেচাকেনা হলেও এবার কেউ এ ধরনের সাহস দেখাচ্ছেন না।
আড়তদারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামেই তারা চামড়া কিনছেন। তবে এখন লবণের দাম বেশি, শ্রমের মূল্য বেশি। সবকিছু মিলিয়ে তারা যে দামে চামড়া কিনছেন, তা ঠিকই আছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয় ২.৬৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬১ কোটি ডলার। -ডেস্ক