(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশে ও ভারতের ভূখন্ডের মধ্যে পরস্পরের ছিটমহলগুলো গতকাল শুক্রবার মাঝরাত থেকেই মূল ভুখন্ডের অংশ হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। ফলে সেখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। শুক্রবার থেকেই ছিটমহলগুলোয় নানা আনন্দ উৎসব চলছে। বিকেলের পর বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে মেতেছে ছিটমহলবাসী। নীলকমল নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৌকা বাইচ। বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের একটি হচ্ছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় দাসিয়ারছড়া। আজ শনিবার সকালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসিয়ারছড়া ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
দাসিয়ারছড়া থেকে বিবিসির সংবাদদাতা ফারহানা পারভীন জানাচ্ছেন, সেখানে রাতেও চলেছে আনন্দ উৎসব। রাত ১২টা ১ মিনিটে ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে ছিটমহলের বাসিন্দারা নতুন পরিচয়ের সূচনা করেছেন। আটষট্টি বছরের বিচ্ছিন্নতার প্রতীক হিসেবে ৬৮টি মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে। এছাড়া সেখানে মশাল মিছিল হয়েছে। স্থানীয় কালিকাট বাজারে রাতেও চলছিল গানবাজনা।
ভারতের মশালডাঙ্গা ছিটমহল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী জানিয়েছেন, ভারতের ভূখণ্ডে থাকা বাংলাদেশের ছিটমহলগুলোর বাসিন্দারাও নানা আনন্দ আয়োজন করেছেন। মাঝরাতেই ছিটমহলগুলোয় বাসিন্দারা জাতীয় পতাকা তুলেছেন আর ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
ভারতে মশালডাঙ্গা ছিটমহলে অনেক ছোট শিশুরা বাবার কাঁধে চড়ে, হাতে পতাকা নিয়ে এসেছে আনন্দে অংশ নিতে। বাংলাদেশের মূল ভূমির অংশ হবার মধ্যে দিয়ে দাসিয়ারছড়ার অধিবাসীরা পাবেন রাষ্ট্রীয় পরিচয়। দুদেশের যৌথ জরিপ অনুযায়ী ১৬২টি ছিটমহলে সাড়ে ৫৫ হাজারের মত মানুষ রয়েছে।
বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলে সাড়ে ৪১ হাজারের মধ্যে ৯৭৯ জন ভারতের নাগরিক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দাসিয়ারছড়া থেকে মোট ২৮৪ জন ভারতে চলে যাবার অপশন দিয়েছেন। তারা অবশ্য এসব আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না, বরং প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে কোন এক সময় ভারতে চলে যাবার। তবে এতদিনের পুরো আবাসভূমি ছেড়ে যেতে তাদের যে কষ্ট হচ্ছে, বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলার সময় অনেকেই সে কথা বলেছেন।
১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল অনুযায়ী – ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের ৬৮ বছর পর দুটি দেশের মধ্যেকার সীমান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের ভূমি হিসেবে এবং ভারতের ভিতরকার বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। দু দেশের সরকারের হিসেব অনুযায়ী ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের ৫১ টি এবং বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১ টি ছিটমহল রয়েছে। এর মধ্যে জরিপে বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ছিটমহলে সাড়ে ৪১ হাজার এবং ভারতের মধ্যে থাকা ছিটমহলে ১৪ হাজার মানুষের বসবাসের তথ্য রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।