(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়, তার থেকে অনেক কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দেয়। ওই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় যেন না হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। সেই অনুরোধটা আমি সবার কাছে জানাচ্ছি।আজ বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ২৩ উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে। আমরা পর্যায়ক্রমে সারাদেশকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করব। কেউ আর অন্ধকারে থাকবে না।তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের। দেশের ও জনগণের সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। সম্পদ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছি। বিতরণ ও সঞ্চালনেরও ব্যবস্থা আমরা করছি। উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ এটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সরকারপ্রধান বলেন, কোনো ঘর যাতে অন্ধকারে না থাকে, সে ব্যবস্থা আমরা করব। সব ঘরে আলো কীভাবে জ্বালাব? সব জায়গায় আমাদের গ্রিড লাইন নেই। তবে যেখানে গ্রিড লাইন নেই বা দুর্গম এলাকা, সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। বায়োগ্যাস প্লান্ট বা সোলার প্যানেল বিভিন্ন উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে সেই ঘরগুলো যাতে অন্ধকারে না থাকে, সে ব্যবস্থা আমরা করবো। সেই লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন দারিদ্র্যে হার ছিল ৪১ ভাগ। আজকে আমরা তা কমিয়ে ২১ ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের সব পরিকল্পনা একেবারে গ্রাম পর্যায়ে অর্থাৎ তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যাতে এর সুফল ভোগ করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। অর্থাৎ উন্নয়নটা শুধু শহরে বসবাস করা বা রাজধানীতে বসবাস করা কিছু মানুষেরই উন্নয়ন না, উন্নয়নটা হচ্ছে একেবারে গ্রাম পর্যায়, তৃণমূল পর্যায়ে যে মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা, আর্থসামাজিক উন্নতি করা, তাদের জীবনমান উন্নতি করা, কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করা এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পূরণ করা। অর্থাৎ মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। সব থেকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, আমরা খদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আজকে ইনশাল্লাহ আমরা খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।     প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।প্রসঙ্গত, আজ সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ২৩টি বিশেষায়িত বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হলো- আনোয়ারা ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, রংপুরে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলীতে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিকলবহা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটিয়া ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেঁতুলিয়া ৮ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গাজীপুর ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।এ ছাড়া শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতাধীন ২৩ উপজেলা হলো বগুড়ার গাবতলী, শেরপুর, শিবগঞ্জ, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, ফরিদপুরের মধুখালী, নগরকান্দা, সালথা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, নবীগঞ্জ, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, মহেশপুর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, নাটোরের বড়াইগ্রাম, লালপুর, সিংড়া, নেত্রকোনার বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ এবং পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানী।  -ডেস্ক