(দিনাজপুর২৪.কম) বিমান ছিনতাইয়ের ভয়াবহ এক নাটকীয়তা। এক অস্ত্রধারী ছুটে গেল ককপিটে। অমনি গুলির শব্দ। হুমকি দিল বোমা মারার। তবে বিমানটি ১৪২ জন যাত্রী নিয়ে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়। রোববার দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টা নিয়ে বিদেশী গণমাধ্যম এভাবেই প্রতিবেদন তুলে ধরেছে। অনলাইন ডেইলি মেইলের শিরোনাম ‘টেরিফাইং হাইজ্যাক ড্রামা অ্যাজ গানম্যান স্টর্মস ককপিট অ্যান্ড থ্রেটেনস টু বোম্ব দুবাই-বাউন্ড বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্লেন বিফোর ইট মেকস ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং উইথ ১৪২ প্যাসেঞ্জারস অন বোর্ড’। এতে বলা হয়েছে, ২৫ বছর বয়সী একজন যুবক দুবাইগামী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল।

এতে বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। এরপর নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা ওই যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনার পর বাংলাদেশের স্পেশাল ফোর্সগুলো দ্রুত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ১৪৭ এর কাছে ছুটে যান। একজন যাত্রী তার কাছে অস্ত্র ও বোমা থাকার হুমকি দেয়ার পর এটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। বিমানটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।

একজন যাত্রী দ্য স্ট্রেইটস টাইমসকে বলেছেন, বিমানটি উড্ডয়নের ঠিক ১০ মিনিট পরে ওই ছিনতাইকারী দু’বার গুলি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন ওই ছিনতাইকারী মানসিক বিকারগ্রস্ত। বিমানটি অবতরণ করার পর পরই সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা বিমানটিকে ঘিরে ফেলেন। তারা ছিনতাইকারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগ্রাসী আচরণের কারণে তাকে গুলি করা হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, পরে ওই সন্দেহজনক ছিনতাইকারী মারা গেছে। মেজর জেনারেল মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করি। তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলি। কিন্তু তাতে সে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তাকে গুলি করা হয়। সে একজন বাংলাদেশী। তার কাছে আমরা একটি পিস্তল পেয়েছি। আর কিছুই না।

মেইল আরো লিখেছে, বিমানের একজন ক্রু লক্ষ্য করেন একজন যাত্রী সন্দেহজনক আচরণ করছেন। এতে বিমানটি উপকূলীয় চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এরপর এর ১৪২ জন যাত্রীর সবাইকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সেনা ও পুলিশ অফিসাররা বিমানটিকে ঘিরে ফেলেন। এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদ বলেছেন, আমরা সফলতার সঙ্গে সবাইকে উদ্ধার করে এনেছি। বিমানটি অবতরণ করার পর সেনা, নৌ বাহিনী ও পুলিশের এলিট ফোর্স তা ঘিরে ফেলে। বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক প্রধান নাঈম হাসান এর আগে বলেছিলেন, ওই সন্দেহভাজন দাবি করেছিল যে, তার কাছে বোমা ছিল। তার সঙ্গে কথা বলে আমাদের মনে হয়েছে সে মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিল।

অনলাইন বিবিসির শিরোনাম ‘বাংলাদেশ প্লেন হাইজ্যাকার শট ডেড বাই স্পেশাল ফোর্সেস’। এতে বলা হয়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে একজন যাত্রীকে নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি করে হত্যা করেছে। ওই সন্দেহজনক ব্যক্তি হুঁশিয়ার করেছিল যে, তার কাছে একটি পিস্তল আছে। বিমানটি চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের পর তাকে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গুলি করে হত্যা করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বিজি ১৪৭ এর যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১৪৮ জনকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিমানটি ছিনতাই করতে চেষ্টা করেছিল তা পরিষ্কার নয়। বিবিসি লিখেছে, সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই ব্যক্তির বয়স ২৫ বছর বলে ধারণা করা হয়। রোববার প্রথমে যখন তাকে গুলি করা হয় এতে সে আহত হয়। অল্প পরেই সে মারা যায়।

এর আগের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, সন্দেহজনক ওই ব্যক্তি হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ। সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিল।

ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই-এর শিরোনাম ‘বাংলাদেশ প্লেন হাইজ্যাক: সাসপেক্ট শট ডেড’। এতেও প্রায় একই রকম কথা বলা হয়। এ ছাড়া সিএনএনসহ প্রায় সব মিডিয়া রিপোর্টটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। সূত্র; মানবজমিন