(দিনাজপুর২৪.কম) বিডিআর বিদ্রোহের বিচারে আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসরণ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২৮ শে নভেম্বর নিজস্ব ওয়েব সাইটে তারা একটি বিবৃতি দিয়েছে। এহে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হাইকোর্টে (সাবেক) বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকা-ের বিচারে ১৩৯ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ- বহাল রেঝেছেন। আদালত এছাড়া অন্য ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- বহাল রেখেছেন। এক্ষেত্রে নতুন এই বিচারে বাংলাদেশ সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসরণ করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো বলেছে, ঢাকার পিলখানায় তখনকার বিডিআর সদর দপ্তরে কমান্ডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিডিআর সদস্যরা।

এ সময়ে হত্যা করা হয় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৪ জনকে। কর্মকর্তাদের বেশ পরিবারের বেশকিছু নারীর ওপর চালানো হয় যৌন নির্যাতন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, তারা তাদের তদন্তে জানতে পেরেছে, অভিযুক্তদের অনেককে আটক অবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছে। যথাযথ প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয়া হয় নি তাদের। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে বলে আসছি যে, যে নৃশংসতা ঘটেছে বিদ্রোহের সময় তার তদন্ত ও বিচার হতে হবে। তবে তা নির্যাতনের পরে গণ বিচারের মাধ্যমে হলে তা হবে অন্যায্য। এমনটা হওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের শেষের দিকে নির্বাচনে বিজয়ী হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। তার নেতৃত্বে নতুন সরার গঠনের সামান্য কয়েকদিনের মাথায় ঘটে ওই বিডিআর বিদ্রোহ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, এরপর বড় মাপের চাপ আসে একটি মহল থেকে। অভ্যুত্থানের আশঙ্কা দেখা দেয়। তখন প্রায় ৬০০০ বিডিআর সদস্যকে আটক করে পরিস্থিতি সামাল দেয় সরকার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, রুদ্ধদ্বার সামরিক আদালতে অনেকের গণবিচার করা হয়। অন্যদিকে বেসামরিক বিচার কার্যক্রম চলতে থাকে আলাদাভাবে। এর মধ্যে একটি আদালতকক্ষে গণবিচার করা হয় প্রায় ৮৫০ বিদ্রোহকারী বিডিআর সদস্যের। ২০১২ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াট একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। ইংরেজিতে এর নাম দেয়া হয় ‘দ্য ফেয়ার নেভার লিভস মি: টর্চার, কাস্টডিয়াল ডেথস, অ্যান্ড আনফেয়ার ট্রায়ালস আফটার দ্য ২০০৯ মিউটিনি অব দ্য বাংলাদেশ রাইফেলস’। এতে বিদ্রোহ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। ছিল কর্তৃপক্ষের জবাবও। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিদ্রোহের পরে কর্তৃপক্ষের হাতে সিরিজ নির্যাতনের তথ্য প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করে। এর মধ্যে দেখানো হয় কমপক্ষে ৪৭টি নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু। বিডিআর সদস্যদের ওপর র‌্যাব ও অন্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে সরকার দাবি করে, নিরাপত্তা হেফাজতে যারা মারা গেছেন তাদের মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু। -ডেস্ক