(দিনাজপুর২৪.কম) নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) কাছে হস্তান্তর করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এই বিধিমালার খসড়া হস্তান্তর করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলাবিধির খসড়া আজ আমি প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেছি। এটি এখন তিনি দেখবেন। এরপর খসড়া বিধিটি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মন্ত্রণালয় এটি গেজেট আকারে জারি করবে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করতে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আইন মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে যান। প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী দুজন একান্তে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী খসড়া বিধিমালা প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি জানিয়েছেন।

চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন আইনমন্ত্রী। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেছিলেন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে সরকার। সেই বক্তব্যের এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিধিমালার খসড়া প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করা হলো।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারের প্রণীত খসড়া শৃঙ্খলাবিধি সুপ্রিম কোর্ট তাদের সুপারিশসহ আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে সময় নেয় সরকার। আপিল বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করেছিলেন আদালত।

তবে ওই বছর ১১ ডিসেম্বর রাতে আইন মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রের মাধ্যমে জানায়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরদিন ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ দ্বিমত পোষণ করেন।

আদালত বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।’ বিধি প্রণয়ন সম্পর্কে আপিল বিভাগ বলেন, ‘এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন। এখানে কোনো কম্প্রোমাইজ নেই।’ তবে আপিল বিভাগের এই অভিমত সত্ত্বেও বিগত সাত মাসেও এই গেজেট জারি করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন আদালত। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। ১২ দফার মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বাস্তবায়ন করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করেন।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের জন্য ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগ চার সপ্তাহ সময় দেন সরকারকে। এরপর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। কিন্তু তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করে আলাদা একটি শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করেন। গত ২ জানুয়ারি এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত চারটি বিধিমালা সাত দিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দেন।নিম্ন আদালতের এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষকে ২২ বার সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। -ডেস্ক