(দিনাজপুর২৪.কম) চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলার দ্বিতীয় দিনেই বিক্ষোভের মুখে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হলো। মঙ্গলবার সকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত প্রায় একমাস ধরে পরীক্ষা বাতিল ও ফল পুনঃনিরীক্ষণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনরত চিকিৎসরা।

এ সময় পুলিশের বাধা অতিক্রম করেই তারা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা ভিসির রুমের সামনে চলে যান। পরে আন্দোলনরতদের মধ্য থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি ভিসির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার পর ভিসি তাদের নিয়োগ পরীক্ষা আপাতত স্থগিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। সেখানেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

তবে চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা লিখিত আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেন ঘোষণা দিয়েছেন তারা। চলতি বছরের ২০ মার্চ বিএসএমএমইউতে ২০০ জন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। লিখিত পরীক্ষায় একটি পদের জন্য চারজন প্রার্থী পাস করেন। এ হিসাবে ৭১৯ মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এদিকে ফল ঘোষণার পরপরই সুযোগবঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গত ২২ মার্চ থেকে মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সকালে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শুরু করেন চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত রোববার সকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অফিসে যেতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন চিকিৎসক আহত হন।

এই ঘটনার পর থেকে ভিসির কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন মেডিকেল অফিসার পদে চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা। -ডেস্ক