(দিনাজপুর২৪.কম) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৯ মার্চ বিএনপির সমাবেশের অনুমতি পাবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (২৭মার্চ) সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপির ৩ নেতা) বলেছেন ২৯ তারিখের সমাবেশের পারমিশন (অনুমতি) দেয়া হচ্ছে না। আমি বলেছি কী কারণে দেয়া হচ্ছে না- নিশ্চয়ই কোনো কারণ সেখানে থাকতে পারে। তার পরের দিন কিংবা যেকোনো দিন আপনাকে দেবে, যেদিন কোন ধরনের অসুবিধা না থাকে। দেবে না এমন নয়, কারণ আপনারা তো এর আগেও করেছেন।’

‘ডিএমপি কমিশনারের কাছে নিশ্চয়ই কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল সেজন্য তিনি তাদের বারণ করেছেন। সভা যাতে নিরাপদে করতে পারেন সেজন্য আমাদের কমিশনারেরও কিছু দায়িত্বে রয়েছে। সেজন্য হয়তো কমিশনার অন্যদিন বা অন্য কোনো স্থানে সমাবেশ করতে বলেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ কমিশনার যদি মনে করেন ২৯ তারিখে তাদের সভাটি করার জন্য কোনো অসুবিধা নেই। তবে পুলিশ কমিশনার সেই ব্যবস্থা নেবেন।’

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি নেতা) আমাদের বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য বলেছেন আমি নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানতে চাইবো অসুবিধা কোথায় কিংবা কোনো ধরনের অসুবিধা আছে কি না?’

অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি আপনার না পুলিশ কমিশনারের উপর নির্ভর করছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারের উপর নির্ভর করছে। দেশকে নিরাপত্তা দেয়ার মূল দায়িত্ব আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর।’

কারান্তরীণ খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়া সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এতে বিএনপি নেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দেশজুড়ে নেতাকর্মী গ্রেপ্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিনা কারণে বা অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করছি না। নির্দিষ্ট অভিযোগ বা তাৎক্ষণিক অপরাধের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।
এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা এর আগেও সমাবেশের অনুমতি চাইতে বিভিন্ন সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে কথা বলেছি কিন্তু তারা অনুমতি দেননি। এবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এসেছি, আশা করি তারা অনুমেতি দেবেন। ‘আমরা আশা করছি এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পাবো। সে অনুযায়ীই এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আবারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে বিএনপি। তবে ওই সময় অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।এরপর তৃতীয় দফায় ১৯ মার্চ সমাবেশের তারিখ ঘোষণা করে অনুমতি চাইতে গেলেও ওইদিন সন্ধ্যায় জানানো হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। -ডেস্ক