-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকাল থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কিছু কেন্দ্রে এজেন্ট প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারও এসব অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

দক্ষিণ সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠালবাগানের খান হাসান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫টি বুথে বিএনপির কোনো এজেন্ট নেই। প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুর রকিব বলেন, আমরা ইভিএম মেশিন চালু করতে খুব  ব্যস্ত ছিলাম। একেকটি মেশিন চালু করতে ১৫/২০ মিনিট করে সময় লেগেছে। তাই এজেন্ট আসছে কিনা খবর নিতে পারি নি। এই ওয়ার্ডে সকালবেলা বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। এত বিএনপির মনোনীত কাউন্সিল প্রার্থীসহ ৮জন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, সেটি জানি না। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বাইরে সংঘর্ষ হয়েছে। বিস্তারিত জানি না। কেন্দ্রের ভেতরে কিছু হয়নি। একইভাবে নিউ জুনিয়র হাইস্কুলের ৫টি বুথে বিএনপির কোনো এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৪৯ নং ওয়ার্ডের ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের কোন এজেন্টকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। একজন এজেন্ট অভিযোগ করেন, তাদেরকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদেরকে বাধা দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে সকাল থেকে ১১টা পর্যন্ত মোট ভোট পড়েছে ১০০ টি। তবে এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার দাবি করেছেন বিএনপি প্রার্থীদের দুজন এজেন্ট কেন্দ্রে আছেন। এদিকে দক্ষিণ সিটির ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তিন কেন্দ্রে বিএনপির কোন এজেন্ট নেই। এই  ওয়ার্ডের সেগুনবাগিচা হাই স্কুল, আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় এবং বেগম রহিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএনপির কোন এজেন্টদেরকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করেন, সকালে আমার এবং আমাদের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে তাদেরকে মারধর করে বের করে দেয়া হয়। কারা ঢুকতে দিচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতনের লোকজন আমাদের কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেয়নি। তার একজন এজেন্টকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাজধানীর বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের কাগজপত্র ছিড়ে ফেলা, টেবিল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দলের কর্মী সমর্থকদের পক্ষ থেকে। এ ছাড়াও এখানে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একই অবস্থা দেখা যায় দক্ষিণ সিটির ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাড়ীর শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ১০ টার পরে কয়েকজন ঢুকলে তাদেরকেও বের করে দেয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। প্রিজাইডিং অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, সকালে যারা আমার কাছে এসেছিল তাদেরকে আইডি কার্ড দিয়েছি। ১০টার দিকে তারা এসে বলে তাদেরকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এজেন্ট না আসলে আমার কিছু করার নাই। ভোট কতটা দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১২টা পর্যন্ত ৩০০ ভোট পড়েছে। -ডেস্ক