(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয় না। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনও করতে দেয়া হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভয় পায়। ভয় পাওয়ার কারণÑ তারা জানে বিএনপি যদি রাজপথ এবং নির্বাচনে আসে তাহলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপিকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। বিএনপি জনগণের দল। বারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই সরকার গঠন করেছে। তবে বিএনপি এখন কঠিন দুঃসময় পার করছে। নেতাকর্মীরা বিপদগ্রস্ত, হামলা, মামলা, গুম-খুনের শিকার। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি নোংরা রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগই নোংরা রাজনীতি করে। বিএনপি একটি উদারপন্থী, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপিতে সাম্প্রদায়িকতার লেশমাত্র নেই। বরং আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীনের পর থেকেই নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ ও জরুরি আইন জারি করেছে আওয়ামী লীগ। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ফ্যাসিস্ট ও অপশক্তির বিরুদ্ধে এই সরকারকে রুখে দাঁড়াতে হবে। নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে। সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের সরকারের টনক নড়ে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিবৃতি দেয়, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তুরস্কের ফার্স্ট লেডি বাংলাদেশে আসেন। এটা দেশের জন্য লজ্জাজনক। তবে এখন সরকার কিছুটা নড়াচড়া শুরু করেছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার নানা অজুহাতে বিএনপিকে আবারও নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। কিন্তু তা হতে দেয়া হবে না। আলোচনা সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান বক্তব্য দেন। -ডেস্ক