*বিএনপি ২৪২
*জামায়াত ২২ 
*ঐক্যফ্রন্ট ১৯ 
*জোটের অন্যরা ১৭

(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপির কাছে জামায়াতই সেরা! দিন শেষে আসন ভাগে জামায়াতের পাল্লাই ভারী। ড. কামালের গণফোরাম, আসম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ চার দলকে মিলিয়ে যতগুলো আসন দেয়া হয়েছে তার চেয়ে জামায়াতকে একাই আরও তিনটি আসন বেশি দেয়া হয়েছে! এরপরও মাঠে থাকবে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও! এর ফলে বিএনপির সঙ্গে কিছুটা ফ্রন্টের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মনোমালিন্য থাকলেও এই মুহূর্তে ঐক্যফ্রন্টে থাকছেন ড. কামাল ও তার ফ্রন্টের শরিকরা। বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, এরই মধ্যে বিএনপি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে বিএনপি নিজেদের জন্য ২৪২ আসন রেখে জোট ও ঐক্যফ্রন্টকে ৫৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। জামায়াতকে একাই ২২টি আসন দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি আসনে জামায়াত মুক্তভাবে নির্বাচন করবে। ঐক্যফ্রন্টে দেয়া হয়েছে ১৯ আসন। আর ২০ দল পেল ১৭টি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে গণফোরাম পেয়েছে ৭টি আসন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ৪টি, নাগরিক ঐক্য ৪টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ পেয়েছে ৪টি আসন। অন্যদিকে, ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জামায়াত ২২টি, এলডিপি ৫টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৩টি, খেলাফত মজলিসের২টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১টি, এনপিপি ১টি, পিপিবি ১টি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ২টি এবং লেবার পার্টি ১টি আসন পেয়েছে। শরিক দলগুলোর সব প্রার্থী বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলেও কেবলমাত্র এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ চট্টগ্রাম-১৪ আসনে লড়বেন দলীয় প্রতীক ছাতা নিয়ে।বিএনপি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, ২০ দলীয় নির্বাচনি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতকে ১৯টি আসনে চূড়ান্তভাবে ছাড় দেয় বিএনপি। সে অনুযায়ী দলটির হাতে চিঠিও তুলে দেয়া হয়। কিন্তু জামায়াত এতে আপত্তি তোলে। কারণ প্রাথমিকভাবে দলটিকে ২৫টি আসনে ছাড় দেয়া হয়েছিল এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছিল জামায়াত। একটি আসন রেখে বাকি ২৪টি আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয় জামায়াত। জামায়াত সূত্র জানায়, সিলেট-৫ আসনে তাদের পাশাপাশি জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকেও ছাড় দিয়ে চিঠি দেয় বিএনপি এবং পিরোজপুর-১ আসনে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদীকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নেয়। আসন বণ্টনসহ এসব বিষয় নিয়ে জামায়াত-বিএনপি সংকট দেখা দেয়। জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা ২২টি আসনে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি পেয়েছি। শুরুতে ২৫টি আসন দেয়ার কথা হয়েছিল। এখন ৩টি কমে গেছে। কিন্তু এই তিনটি আসনই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন এসব আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। আমার জানা মতে, আরও কিছু আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী করার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।’গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জগলুল আফ্রিদ বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে গর্ত থেকে তুলে এনেছেন। কিন্তু আসন ভাগাভাগির বিষয়ে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের নেতাদের মনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিএনপির কাছ থেকে পাওয়া পাঁচটি আসন বাদে অন্য আসনে প্রার্থীরাযদি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় তাহলে কোনো আপত্তি আসবে না বলে মনে করি।গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘কিছুটা ক্ষোভ তো থাকবেই। এটাই স্বাভাবিক। তবে আসন বাড়ানোর জন্য আমরা বিএনপিকে চাপ দিয়েছি। কিন্তু বিএনপির যুক্তির কাছে আমরা পারিনি।’ ‘আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এই মুহূর্তে কোনো মতভেদ চাই না। যার যার মতো সবাইকে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ঐক্যফ্রন্টেই আছি। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’ -ডেস্ক