hrw-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) বাল্যবিবাহ ঠেকাতে বড় ধরণের দায়িত্ব এখন বাংলাদেশের আইনপ্রণেতাদের ওপর। বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়ার একটি প্রস্তাবিত আইন বাতিল করতে তাদের ভুমিকা রাখতে হবে। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকার বিভাগের সিনিয়র গবেষক হিথার বার এ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বাধ্যবিবাহ বৈধ হওয়া ঠেকাতে শেষ ভরসা এখন বাংলাদেশের সংসদ। ২৪শে নভেম্বর বাংলাদেশের মন্ত্রীপরিষদ একটি খসড়া আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এতে দেশটিতে বাল্যবিবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে অস্পষ্ট কিছু ব্যতিক্রম জুড়ে দেয়া হয়েছে যা মেয়েদেরকে আরও মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দেবে। এমনকি ভুক্তোভোগীদের শাস্তি দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। পরিহাসের বিষয় হলোÑ নতুন এই খসড়া আইনটি এসেছে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাল্যবিবাহ বন্ধের প্রতিশ্রুতি থেকে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০১৪ সালের মধ্যে আইন সংস্কার করে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কঠোরতর শাস্তির বিধান যোগ করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের কম মেয়েদের বিয়ে বন্ধ করার লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চুড়ান্ত করা হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে মেয়েদের ১৮ বছরের আগে সকল বিয়ে বন্ধ করা হবে। এই প্রতিশ্রুতির দু’বছরে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় কোন কর্মপরিকল্পনা নেই। খসড়া আইনে কঠোরতর শাস্তি রয়েছে বটে। এর মধ্যে বিয়ে করা শিশুদের জন্যও শাস্তি রাখা হয়েছে। ১৫ দিনের কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা। এটাও ভুল একটি পদক্ষেপ। এছাড়া প্রস্তাবিত খসড়ায় কিছু ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ বৈধ করে বিদ্যমান আইনকে দূর্বল করেছে। বর্তমান আইনে বিয়ের জন্য নারীদের নুন্যতম ১৮ বছর এবং পুরুষদের ২১ বছর হতে হবে। এর কোন ব্যতিক্রম নেই। তবে, নতুন খসড়া আইনে ‘বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে’ ১৮’র নিচে বিয়ের অনুমতি দেয়ার কথা বলা আছে; যেমন, ‘অপরিকল্পিত বা বেআইনি গর্ভধারণ’। এই খসড়ায় ‘বিশেষ ক্ষেত্রে’ বিয়ে প্রসঙ্গে সর্বনি¤œ বয়স নির্ধারণ করা নেই। এটা বড় ধরণের পশ্চাৎধাবন। বাল্যবিবাহ নিয়ে বাংলাদেশের আইন ব্যাপকহারে উপেক্ষিত হলেও, কঠোরতর নতুন একটি আইন নিরূপনের অর্থ হওয়ার কথা ছির তা প্রয়োগে মনোযোগ দেয়া। বিদ্যমান আইনকে দূর্বল করাটা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দূর্বল করবে। আর এটা দেশজুড়ে পিতামাতাদের কাছে বার্তা পাঠাবে যে, অন্তত কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে সরকার। -ডেস্ক