চীফ নিউজ এডিটর মোঃ নূর ইসলাম নয়ন, (দিনাজপুর২৪.কম)ভারতের বালুরঘাট থেকে বাংলাদেশের হিলি ও গাইবান্ধা হয়ে মেঘালয় রাজ্যের সাথে সড়কপথ স্থাপনে ভারত সরকারের নেওয়া গত ৬ বছর আগের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারত জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি ফর কড়িডোর নামে সংগঠনটি। একইসঙ্গে ভারতের জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ী থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি ও কুষ্টিয়ার দর্শনা হয়ে কলতাকা পর্যন্ত ট্রেনও চালুর দাবী জানানো হয় ওই মিটিংয়ে।
বাংলাহিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ মির্টিংয়ে সভাপতিত্ব করেন হিলি স্থলবন্দর উন্নয়ন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আবুল কাশেম আজাদ। এতে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি ফর করিডোরের ভারতের আহবায়ক নবকুমার দাস, সাংবাদিক রুপক দত্ত, অমুল্য সরকার ও কার্তিক সাহা। আর বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন হিলি স্থলবন্দর উন্নয়ন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ হারুন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, হিলি স্থলবন্দর ট্রাক মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহীনুর রেজা শাহিন ও সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম।
এসময় যৌথ মিটিংয়ে বক্তব্য দেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সবুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মন্ডল, হাকিমপুর ডিগ্রী মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম মন্ডল, ব্যবসায়ি সেলিম রেজা সহ অনেকে।
জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি ফর করিডোরের ভারতের আহবায়ক নবকুমার দাস বলেন, ২০১২ সালে ভারত সরকারের কাছে পেশ করা প্ল্যানিং কমিশনের ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটির’ (এনটিডিপিসি) রিপোর্টে ভারতের বালুরঘাটের হিলি থেকে বাংলাদেশের হিলি ও গাইবান্ধা হয়ে মেঘালয় রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জের তুরা পর্যন্ত সড়ক কড়িডোরের বিষয়টি বাস্তবায়নে প্রথম স্থানে রাখা হয়। অথচ দ্বিতীয় স্থানে থাকা কলকাতা-খুলনা করিডোরকে চালু করা হয়েছে। প্রথম স্থানে থাকা হিলি-মহেন্দ্রগঞ্জ করিডোকে আজও চালুর ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। এটি দ্রুত চালু করা হলে ভারতের হিলি থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে মেঘালয়ের মহেন্দ্রগঞ্জের দুরত্ব ১৫’শ কিলোমিটারের স্থলে কমে আসবে মাত্র ১০০ কিলোমিটারে। যা দুই অঞ্চলেই যাতায়াত ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক পরিবেশ, কৃষিজ ও খনিজ পণ্য সহ বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন হবে। কমবে ব্যয়ও। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দুই অঞ্চলেরই বৈদেশিক বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
ভারতীয় সাংবাদিক রুপক দত্ত জানান, ১৯৬৫ সালের আগেও জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ী থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি ও কুষ্টিয়ার দর্শনা হয়ে ভারতের গেদে হয়ে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করেছে। এরপর বন্ধ হয়ে যায় সম্প্রতির সেই ট্রেন। বর্তমানে সেই ট্রেন আবারও চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাই এই ট্রেন চালু হলে যেন বাংলাদেশের হিলি রেলষ্টেশনে যাত্রাবিরতি করে সেই ব্যবস্থা এখানকার মানুষদের করতে হবে। তাহলে আমাদের দুই পাড়ের মানুষেরা এই ট্রেনের মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে কলকাতায় পৌছাতে পারবে। এছাড়া বালুরঘাট থেকে সীমান্তবর্তী হিলির চৌদ্দহাত কালি মেলা এলাকা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারের জন্য চলতি বাজেটে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই এই কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষে হিলি স্থলবন্দর উন্নয়ন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, এসব সড়ক ও রেলপথের কড়িডোরগুলি বাস্তবায়ন হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আমাদের দেশের অন্যান্য এলাকার সাথে যোগাযোগের উন্নতি হবে এবং দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে। এ লক্ষে আজ এই আয়োজন করা হয়েছে।