(দিনাজপুর২৪.কম) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের-জাসদ বিদ্রোহী সংসদ সদস্যের বিষয়ে বিবেচনা করবে জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এ বিষয়ে কোনো চিন্তা নেই। এমনটাই জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। রোববার বিকেলে শেরেবাংলা নগরস্থ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। উল্লেখ্য, জাসদের ৬ সংসদ সদস্যের মধ্যে ৪ জনই বর্তমানে ইনুর জাসদ থেকে বেরিয়ে গেছেন। তারা হলেন- জাসদের বিদ্রোহী কমিটির কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, রেজাউল করিম তানসেন ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য লুৎফা তাহের।

হাসানুল হক ইনু-শিরীন আখতার যে দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, নির্বাচন কমিশন সেই দলকে জাসদের ‘মশাল’ প্রতীক ব্যবহার করতে দিয়েছে বলে জানান মো. শাহনেওয়াজ। তাহলে জাসদের ‘মশাল’ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিতদের সাংসদ হিসেবে থাকার যোগ্যতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সংসদ বিবেচনা করবে, এটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা শুধু নিবন্ধনের বিষয়টি দেখেছি।’

শাহনেওয়াজ বলেন, ‘কে কয়জন এমপি আছেন, কোন পক্ষে কয়জন কে আছেন- এ বিষয়গুলো মোটেও আমাদের বিবেচনায় ছিল না। আমাদের বিষয় ছিল জাসদ নামে যে দলটা আমাদের নিবন্ধিত, সেই নিবন্ধন অনুসারে আইনসঙ্গতভাবে তারা গঠনতন্ত্র মেনেছে কি না আমরা সেটাই শুধু বিবেচনা করেছি। দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে যে পক্ষ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছে তাদেরকেই আমরা ‘মশাল’ প্রতীক দিয়েছি।’

‘বিভক্ত জাসদের দু-পক্ষই ‘মশাল’ প্রতীক দাবি করে প্রতীকের নিষ্পত্তি চেয়েছিল। এ কারণে আমরা দুই পক্ষকে ডেকেছি, তাদের কথা শুনেছি। তাদের যে গঠনতন্ত্র আছে তা ব্যাখ্যা করেছি এবং ব্যাখ্যা করে তাদের একটা দলকে বলেছি যে, মশাল তারা ব্যবহার করবে। গঠনতন্ত্র অনুসারে যারা মশাল পাওয়ার কথা আমরা বিচার বিবেচনা করে তাদেরকেই মশাল ব্যবহার করতে দিয়েছি’, বললেন শাহ নেওয়াজ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোথায় কি হয়েছে, আমরা ওতো বিচার বিশ্লেষণে যাইনি। আমরা দুই পক্ষের দাখিলকৃত কাগজপত্র বিবেচনা করেছি, কারণ সেখানে কে কোথায় ছিল তা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। কাগজপত্র অনুসারে গঠনতন্ত্রের যে ধারাসমূহ আছে, যে বিষয়গুলো সাংঘর্ষিক নয়, সেগুলো বিবেচনা করেছি। আর তা করে আমরা মনে করেছি যে, হাসানুল হক ইনু জাসদের সভাপতি এবং শিরীন আখতার উনি সাধারণ সম্পাদক। ঠিক সেইভাবে আমরা বিবেচনা করে তাদেরকে মশাল প্রতীক ব্যবহার করতে বলে দিয়েছি।’

এ কমিশনার আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। কাজেই পরবর্তী যুক্তিগুলো উনারা (বিরোধীরা) যদি কোথাও আইনসঙ্গতভাবে বিবেচনা করার জন্য যেতে চায়, সেখানে যেতে পারে।’ -ডেস্ক