bador-dinajpur24মোঃ শামীম মিয়া (দিনাজপুর২৪.কম) অনেক বছর আগের কথা। তখন কৃষকের ফসলে ভরা বনের আশে পাশের জমি গুলো। বনের আশে পাশে লোকেরা ফসল ফলানোর আগেই ক্ষিপ্ত হতো । কারণ, ইদুর ফসল কাঁটতো। আর বাদর, ফসলের ভিতর এসে বাদরামী করতো। এতে কৃষকের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যেতো। এই জন্য কৃষকরা জমির চার পাশ দিয়ে জাল, বেড়া, বড়াই গাছের ডালসহ কাটা, ময়না গাছের ডাল কাটাসহ ইত্যাদি দিয়ে রেখেছে এতে বিপাকে পরেছে বাদর । ইদুর তবুও গর্ত খুড়ে বা জাল কেটে ভেতরে ডুকতে পারে, তবে বাদর পারেনা।
আবার বাদর আর ইদুর এইকই এলাকায় থাকতো। যেমন, বাদর থাকতো গাছের ডালে আর ইদুর থাকতো গাছের নিচে র্গত খুড়ে। তাদের সাথে কোন দিন দেখা হইনী। কারন বাদর দিনে গাছে থাকতো না আর ইদুর রাতে র্গতে থাকতো না। ইদুর জানে সে একা গাছে থাকে আর বাদরও জানে সে একা থাকে গাছে।
সেদিন বাদর, বনের দক্ষিনে খাবারের জন্য গেলো। কিছুদুর গেলেই বাদর ভালো খাবার পেয়ে যায়। আনন্দে মন ভরে খেলো। দুই এক নাইন গানও গাইলো, হাত পা সোজা করে ব্যামও করলো। বাদর মনে মনে বললো, একটু ঘুমাই। হঠাৎ তার বুক চমকে উঠলো  মনে মনে বললো, নানা এখানে ঘুমানো যাবেনা। এই এলাকার বাঘ গুলো ভালো না। এরা হাঁস মুরগী কিছুই বুঝেনা,সব খেয়ে ফেলে। আমি তো বাদর আমাকে গিলে ফেলবে একদম। এই সব ইত্যাদি ভাবতেই বাদরের চোখ চায় একটু পশ্চিমে, বাদর দেখতে পেলো বাঘ ঘুমাচ্ছে। তখন বাদরের মনে শুরু হলো বাদরামী। বানর মনে মনে বলে, শয়তান বাঘ আজ তোরে পাইছি দ্বারা তোকে মজা দেখাবো। বাঘ ঘুমাচ্ছে, আবার নাক ডাকচ্ছে। বাদর গুটি গুটি পায়ে বাঘের কাছে গিয়ে তার লেজ ধরে একটা টান দিলো। অমনী বাদর গাছের ডালে গেলো। বাঘ তার শরীর টা নাড়িয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো, এবার আরো জোরে লেজ ধরে টান দিলো বাদর বাঘের। বাঘ র্গজন দিয়ে উঠে বললো, কে রে আমার লেজ ধরে টান দিলো ? বাদর তো গাছের ডালে। বাদর বললো, এই বিড়ালের বাচ্চা বাঘ, আমি এখানে পারলে আমার কিছু কর। বাঘ আবার গর্জন দিয়ে বললো, তোর এতো বড় সাহস তুই আমার সাথে বাদরামী করছিস। দ্বারা আজ তোকে মজা দেখাচ্ছি। এই বলে জোরে একটা গর্জন দেয় অমনী বনে থাকা আরো ৫০ জন বাঘ আসে এই বাঘের কাছে। এর আগেই বাদর বাঘের মাথাই পিয়ারা ছুরে মারে। বাঘ অজ্ঞান হয়ে গেলে বাদর পালিয়ে যায় গাছের পর গাছ বেয়ে তার নিজের বাসায়।
সেদিন আর খাবারের খোজে বাদর বাহিরে যায়না। তার বাসায় ঘুমাচ্ছে এমন সময় তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। অমনী বাদর দেখতে পারে ইদুরটা গর্ত থেকে বেড় হলো। তারপর গোসল করে এলো, ইদুর মনে করলো সবে গোসল করে আসলাম গা টা শুকিয়ে নেই রোদে আর এখানে বসে থেকেই খাই দুপুরের খাবারটা। বাদর চুপটি করে বসে দেখছে গাছের আড়াল থেকে। ইদুর তার খাবার গুলো মনের আনন্দে খাচ্ছে এমন সময় বাদরের চোখ যায় বাদামের দিকে । বাদাম খেতে বাদরটা খুব ভালো বাসতো। তাই বাদরের জিবাতে পানি এসে যায়। বাদর ভাবলো আমি ইদুরের কাছ থেকে কয়টা বাদাম চেয়ে নেই। তবে আমি যদি ইদুরের কাছ থেকে বাদাম চাই তাহলে মান সম্মান সব চলে যাবে। তাহলে কী করবে বাদর মনে মনে ভাবছে। এমন সময় বাদরের মনে হলো সে চুরি করবে বাদাম গুলো, ইদুর যখন বাসায় থাকবে না। বাদর বাদরকেই জিজ্ঞাসা করলো যদির ধরা পড়ি তালে কী হবে ? বাদরের মন বললো, চুড়ি বিদ্যা বড় বিদ্যা, যদি না পড়ি ধরা। ঠিক হলো বাদর তার প্রিয় খাবার বাদাম খাবেই। তাই বাদর সারা দিন লক্ষ রাখে ইদুর কখন কোথায় যায়।
এদিকে বাঘ সুস্থ হয়ে অন্যন্য বাঘ গুলোকে জানালো বাদরের বাদরামীর কথা। সব বাঘের কানে কানে গেলো বাঘ বাদরের কথা। তারা সবাই বাদরকে খুজচ্ছে। এই খবর বাদর জেনে গেছে তাই সে তার বাসা থেকে আর কোথাও যায়না।
সন্ধ্যা হয়ে আসচ্ছে। ইদুরেরও সময় হয়ে এলো মানুষের ফসল কাঁটতে যাওয়ার। আজ ইদুর যাবে আমদির পাড়া গ্রামে কারো জমিতে। বাদর তাকিয়ে আছে ইদুরের গর্তের দিকে । ইদুর তার কাজে যাওয়া মাত্রই বাদর লাফিয়ে পরে মাটিতে। এবং গর্তে হাত দিয়ে ইদুরের খাবার গুলো খায় বাদর। খাওয়া দাওয়া শেষে বাদর একটা পঁচা পিয়ারা রাখে ইদুরের র্গতের মুখে। এবার বাদর গাছের আড়াল থেকে লক্ষ করছে ইদুর কখন আসে বাসায়। ফোজর হলো ইদুরও এলো তার গর্তে এসে দেখলো তার গর্তে যাওয়ার মিন গেটে এতো বড় পঁচা একটা পিয়ারা। ইদুর মনে করলো আমি যখন জমিতে খাবার সংগ্রহ করেছি তখন কী ঝড় হয়েছে ? এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো এখানে তো কোন পিয়ারার গাছও নেই। আবার ভাবলো যাই হক আগে পিয়ারা টা এখান থেকে সড়িয়ে ফেলি। ইদুরের আজকের সংগ্রহ করা বাদাম গুলো মাটিতে রাখলো। তারপর অনেক কষ্টে পঁচা পিয়ারাটা সড়িয়ে ফেললো। সারাটা দিন খাদ্য সংগ্রহ এবং পিয়ারা সড়িয়ে ইদুরের অসুস্থ অসুস্থ লাগছে। তাই ইদুর ঘুমিয়ে পড়লো। ইদুর তার রেখে যাওয়া খাবারের খোঁজ আর করলো না।
এদিকে বাদরও জেনে গেলো ইদুর কখন খাবারের জন্য বাহিরে যায় এবং কখন আসে। বাদর বাঘের ভয়ে খাবারের খোঁজে যেতে পারেনা কোথাও।
এভাবে প্রতিদিন ইদুরের খাবার বাদর খায় আর ঘুমায় তবে প্রতিদিন কিছুনা কিছু গর্তের মুখে দিয়ে রাখতোই বাদর বাদরামী করে। ইদুর একদিন জানতে পারে তার জমানো খাদ্য গুলো হাড়িয়ে যাচ্ছে। তাই ইদুর আজ আর খাবারের খোঁজে বাহিরে যাবেনা বলে মনে মনে ঠিক করে। আর ভাবে এই চোর চাই হক না কেন তাকে শাস্তি দিতে হলে আমাকে আরেকটা গোপন গেট তৈরি করতে হবে। আজ বাদাম চোরকে দেখাবো ইদুরের হ্যাগরামি। ইদুর অনেক কষ্টে গোপন গেট তৈরী করে। ইদুর প্রতিদিনের মত আজও সন্ধ্যার সময় গেলো খাবার সংগ্রহ করতে। তবে এই যাওয়াটা ছিলো বাদাম চোরের জন্য। ইদুর কিছুর যেয়ে আড়ল দিয়ে আবার আসে গোপন গেট দিয়ে তার গর্তে। এর মধ্যে বাদরও এসে যায় ইদুরের বাদাম চুরি করার জন্য। বাদর যেই গর্তে হাত দেয়, অমনী ইদুর বাদরের হাতে কামড় দেয়,বাদর চিৎকার দিয়ে উঠে। ইদুরের কানে সহজে বাদরের চিৎকার যায়না। ইদুরও তার ছোট্ট ছোট্ট দাঁত দিয়ে কিচ কিচ করে কাটছে বাদরের হাত। এদিকে বাঘ সিংহ বাদে সব জীবজন্তু বাদরের চিৎকার শুনে ছুটে আসে, এসে দেখে বাদরের এই অবস্থা। সব জীবজন্তু টানাটানি করে বাদরের হাত গর্তে থেকে বেড় করে। এতক্ষনে বাদরের হাতের আঙ্গুল গুলো কেটে ফেলে ইদুর। সবাই ইদুরকে র্গত থেকে ডাক দেয় ইদুর বাহিরে এসে সব জীবজন্তুদের বলে বাদাম চুরি করার কথা। ইদুরের মুখে এমন কথা শুনে বয়স্ক এক বাদর চোর বাদরকে বেশ কয়টা থাপ্পর দেয় গালে আর বলে ও যেনো আজকের ,মধ্যে এখান থেকে চলে যায়। আর যদি এখানে থাকে তাহলে চোর বাদরের আরেকটা হাত কেটে দিবে বলে মশা মাছি ইত্যাদি জীবজন্তু হুশিয়ার করে দিলো। চোর বাদর মনে মনে ভাবলো আমি এখানে থাকবো না চলে যাবো অন্য কোথাও যেখানে ইদুর নেই নেই বাঘ। এখানে থাকলে আমাকে সবাই চোর বলে চিনবে,বা ডাকবে, আমি অন্য কোথাও গিয়ে বীর হয়ে বাঁচতে চাই। ইদুর তার গর্ত ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেলো। ইদুর মনে করলো বাদরের বাদরামী থেমে থাকবেনা, আমার গর্তে পানি দিয়ে আমাকে মারতে পারে, তাই সে অন্য কোথাও চলে গেলো।
এদিকে বাদর আসে দুরের এক বনে। এসে সেখানেও তার বাদরামী থেমে থাকেনী, এখানে এসে চোর নাম বাদ দিয়ে, তার নাম রাখলো বীর বাদর। বাদর কে এই এলাকাতে নতুন দেখে অন্য অন্য বাদর বলে আপনী কোথা থেকে এছেন ? আর আপনার হাত কাটলো কী করে। বাদর উত্তরে বলে আমি ৫৫৫৫ সালে যুদ্ধ করিছি বাঘের সাথে। তখন জীবন্ত বাঘের কলিজা টেনে ছিড়ে ফেলি আর তখন আমার হাত গিয়ে মৃত বাঘের দাঁতে লাগে অমনী আমার হাতটা কেটে যায়। অন্য অন্য বাদররা ভয় পেয়ে যায় এই বাদরের কথা শুনে। অন্য এক বানর বললো, এখানে এলে কেন ? বাদর জানে এখানে বাঘ থাকেনা। তাই সে বুদ্ধি খেটে বললো, আমি এখানে এসেছি বাঘ মারতে। অন্য বাদরা চমকে উঠলো এবং বললো, ভাই এখানে তো বাঘ থাকেনা। বাদর অবাক হওয়ার ভানে, ভাবে নিয়ে বললো, তাই নাকী ভাই তাহলে তো বড় সমস্যায় পরে গেলাম। অন্য বাদর বললো, সমস্যায় পরে গেলেন মানে ? বাদর বললো, আমার কমান্ডার এর আর্দেশ আমাকে এই বন থেকেই একটা বাঘ এর কলিজা নিয়ে যেতেই হবে। একশত লাগুক আর দুইশত বছর । অন্য অন্য সহস সরল বাদর গুলো বললো, ভাই আপনী এখানে থাকেন, আপনার খাবারের কোন সমস্যা নেই আজ থেকে আপনী আমাদের এই বনেই থাকবেন। আমরা সবাই আপনাকে খাবার সংগ্রহ করে দিবো। আপনী শধু আমাদের দিকে খিয়াল রাখবেন বাঘ যেন আমাদের না খেতে পারে। বাদর জোর কন্ঠ বললো, হ্যাঁ তোমাদের কে বাঘের হাত থেকে বাঁচানোর দ্বায়িত্ব আমার। বাদর এই বনে স্থায়ী ভাবে বসবাসের সুযোগ পেলো। আসলে বাদর জানে এখানে কোনদিন বাঘ আসবে না। তবে সবাই বাদরকে বীর বলেই ডাকে। তখন বাদর মাথা নাড়িয়ে মনে মনে বলে বাদরের বাদরামী থামবেনা কোনদিনই বুঝি।