(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে । সেহরি খাওয়া শেষ করেই বাড়িমুখো মানুষজন পরিবার-পরিজনসহ ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে হাজির হন বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট বা রেলস্টেশনে। কমতে শুরু করেছেরাজধানীর পথঘাটে মানুষ। নাড়ির টানে, গত কদিন ধরেই ট্রেন-বাস-লঞ্চে ছুটছে মানুষ। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢল নামে রাজধানীর সড়কে মানুষের । বিকাল নাগাদ তা উপচে পড়া অবস্থায় রূপ নেয়। ফলে সৃষ্টি হয় পরিবহণ সংকট। মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে । বিশেষ করে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, প্ল্যাটফর্মের ছাদ, রেললাইন্- সব জায়গায় মানুষ আর মানুষ। ট্রেন এসে থামা মাত্র ঘিরে ধরে সবাই। যাত্রীদের ভিড়ের ভেতর এত বড় ট্রেনকে খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। ট্রেনের কোথায় নেই মানুষ? ইঞ্জিনের চারপাশ, টেনের ছাদ, বগির পাদানি-হাতল, বগির পেছনে, যেন ট্রেনের সঙ্গে লেপটে আছে মানব আস্তরণ। বগির ভেতরে গাদাগাদি অবস্থা তো আছেই। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতেও ভিড়ের কমতি নেই । তবে সেখানে রেলস্টেশনের মতো জনপ্লাবন নেই। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মানুষ রিজার্ভ বাস নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে ছুটছে। আবার কেউ ছুটছে বাস টার্মিনাল কিংবা রেলস্টেশনের দিকে। অন্যদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাজধানীতে যানজট কম থাকলেও, কিংবা অফিস-আদালতে লোকজন কম থাকলেও পরিবহণ সংকটে পড়ে মানুষ। কেনাকাটায় বেরোনো, কাজে বোরোনো, বাড়িমুখী মানুষের সমাগম, সব মিলিয়ে রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলো লোকারণ্য হয়ে পড়ে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ঘণ্টার পর ঘন্টা পরিবহণের জন্য ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে যাত্রীদের।

রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন পরিবহণের কাউন্টারে খবর নিয়ে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যানজট কম ছিল বলে তাদের বাস প্রায় সময়মতো আসছে। তবে ছেড়ে যেতে কিছু সময় দেরি করছে। কিন্ত বাড়ি ফেরার আনন্দের মাঝে তা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।

ভিড়ে টইটম্বুর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখী যাত্রীদের । রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ টার্মিনাল ছাড়িয়ে বানের মতো নেমে আসছে পণ্টুনে। সার বেঁধে নোঙর করা লঞ্চগুলো ঘরমুখী মানুষে বোঝাই হচ্ছে। তবে আবহাওয়া বিরূপ থাকায় মাঝে মাঝে পুলিশের হস্তক্ষোপে কোনো লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠানো না হলেও তা আর পরে বজায় থাকে না। ছাড়ার আগে আগে বহু যাত্রী ছাদে ঠাঁই নেয়; আবার সামনে এগিয়ে গিয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাত্রী তুলে ছাদ ভর্তি করে।

রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল কিংবা লঞ্চ টার্মিনালের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গাবতলীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় খোলা র্যা ব ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত র্যা বের উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, æযাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এখানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি।

টিকিট কেনা থেকে শুরু করে ট্রেন-বাস-লঞ্চে ওঠা, এরপর বাড়িতে স্বজনদের কাছে পৌঁছা পর্য ন্ত কত ভোগান্তি আর বিড়ম্বনা পেরোতে হয় তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সব কষ্ট ছাপিয়ে ঈদে ঘরমুখী মানুষের মুখ আনন্দ-ঝলমল। -(ডেস্ক)