(দিনাজপুর২৪.কম) কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না বাজারে দরের উত্তাপ। একেক সপ্তাহে একেক পণ্যের দর বাড়ছে। এ সপ্তাহে চালের দর বাড়ছে তো অন্য সপ্তাহে সবজির। তবে এ সপ্তাহে বেড়েছে অধিকাংশ সবজি, মাছ, মোটা চাল ও মাংসের দর। সবজিতে বেড়েছে ৫-১০, মাছে বেড়েছে ৩০-৫০, মোটা চালে ২-৩ এবং মাংসে বেড়েছে ১০-২০ টাকা। বাজার দরের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণাতায় নাভিশ^াস ক্রেতাদের। ক্রেতারা বলছেন, মন্ত্রীরা বাজার দরকে স্বাভাবিক বললেও আসল চিত্র উল্টো। চাল তো এখন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। সবজিও বাইরে যাওয়ার চোখ রাঙাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালি ও কারওয়ানবাজারের আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহ ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো সপ্তাহ ঘুরে বিক্রি হচ্ছে ২০-৪০ টাকায়। ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া করলা গতকাল বাজারে ৬০ টাকা কেজি। এছাড়া বেগুন (কালো) ৪০ ও বেগুন (সাদা) ৬০, পটল ৬০, বরবটি ৮০, পেঁপে ৩০ ও ঢেড়শ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চালের বাজার ঘুরে দেখে গেছে মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২-৩ টাকা। কিন্তু চিকন চালের দাম রয়েছে আগের মতোই। স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকা কেজি দরে। যার গত সপ্তাহের বাজার মূল্য ছিল ৪৩-৪৫ টাকা। পায়জাম ৪৮, বিআর আটাশ ৫০-৫২ টাকা। এছাড়া ভালো মানের নাজিরশাইল ৬৫, ইন্ডিয়ান নাজিরশাইল ৬২ এবং সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। এদিকে পোলাও চাল ৮৫-৯০ ও বিরুই (লাল) চাল ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মসলা বাজারে কাঁচমরিচ ৭০-৮০, দেশি পেঁয়াজ ৫০, আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫, আদা ১২০ ও রসুন মানভেদে ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায় ছোটো মাছের চেয়ে বড় মাছের আধিপত্যই বেশি। ৬ কেজির অধিক ওজনের প্রতি কেজি রুই মাছ ৫-৬শ, একই ওজনের কাতল ৫শ, পাঙাশ ১৫০-২শ, গলদা চিংড়ি ৬-৮শ, আকারভেদে প্রতিটি ইলিশ ৫-৮শ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা। দর বেড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫শ, খাসি ৮শ, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাড্ডা বাজারের ক্রেতা নুর মোহাম্মদ বলেন, বাজার দর বাড়ানোর স্বভাব বিক্রেতাদের। তারা সুবিধামতো বাড়ায় এবং কমায়। বিষয়টি এ রকম, একটি দোকানে যে সবজিটি আছে সেটি যদি অন্য দোকানে না থাকে তাহলে সে ইচ্ছেমতো দর হাঁকায়। তিনি আরো বলেন, দিন পার হলেই পণ্যের দাম বাড়া বা কমানো সম্ভব না। এটি দোকানিদের কারসাজি। তাদের ইচ্ছামতো দর বাড়ায় কমায়। চালের দাম তো বছর আগে থেকেই অস্বস্তি। এখন মাছ, মাংস ও সবজিরও অবস্থা একই।
তবে খুচরা মাংস বিক্রেতা মনির হোসের বলেন, আমরা ইচ্ছা করে দর বাড়াই না। আমরা বেশি দরে কিনি বলে বেশিতে বিক্রি করি। তাছাড়া বাজারে সবকিছুরই দর বেশি। মহাখালী বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মজিদ মিয়া বলেন, সকালে সবজি কারওয়ানবাজার থেকে বেশি দরে কিনছি বলে বেশি দরে বিক্রি করছি।
এদিকে পেঁয়াজে দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা। কারওয়ানবাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে তো পেঁয়াজের দর ছিলো আকাশচুম্বী। আমরা মনে করছিলাম দাম আর কমবে না। তবে এখন দেখছি কমেছে। তবে আরো কমানো দরকার বলে তিনি মনে করেন। -ডেস্ক