(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠন করা ছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তার এ সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাকশাল গঠনকে সমর্থন করেছিল বিশ্বের অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন- বিবিসিও। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকান্ডের পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিবিসির একটি ভাষ্যে বাকশাল গঠনকে সমর্থন করে ব্রিটিশ শাসনের পৌনে ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশকে মৌলিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের পৌনে ২০০বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশকে প্রথম মৌলিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার ভিত শক্তিশালী হচ্ছিল। বাঙালী জাতির প্রাণশক্তি বঙ্গবন্ধু এ জাতিকে সমর্যাদায় বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় দেশের বিশিষ্টজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবরটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর সাড়ে ৬টায় তার কনিষ্ঠ কন্যা সেজুতির কাছ থেকে শুনতে পান উল্লেখ করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, তারপর সারাদিনই তিনি দেশী-বিদেশী রেডিও-টিভির খবর শুনেছেন। তিনি বলেন, এমন সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিবিসির একটি ভাষ্য বা মূল্যায়নে তিনি বেশ আশ্চর্য হয়েছিলেন। ওই ভাষ্যে বিবিসি বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠনকে সমর্থন করে ব্রিটিশ শাসনের পৌনে ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশকে মৌলিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সে পথ বন্ধ হয়ে যায় বলে বিবিসির ওই ভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক বলেন, প্রশাসনিক স্তরের ভিত মজবুত করতে বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করে বাকশালের রাজনৈতিক শাখা ও প্রশাসনিক শাখার সমন্বয় ঘটিয়ে ছিলেন। এতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় একটা ইতিবাচক সুস্থতা ফিরে এসেছিল। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাও জবাবদিহিতির স্তরে নেমে এসেছিল। বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতিকে বিশ্বে সমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন বলেই এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর ৬টায় ফার্মগেট থেকে এক আতœীয়ের ফোনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবরটি জেনে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। শুধু তিনি নন, এ খবর শুনে সেদিন পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল বলে তিনি জানান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন বাঙালী জাতির প্রাণশক্তি। শোষিত ও নিপীড়িত বাঙালীর উন্নত জীবনের এ স্বপ্নদ্রষ্টা যদি সেদিন নিহত না হতেন, তাহলে বাংলাদেশ এতোদিনে উন্নত দেশে পরিণত হতো।
নাট্য সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, তার বড় ভাই ভোর ৬টায় তাকে ঘুম থেকে ডেকে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার খবরটি দেন। অবিশ্বাস্য এ খবরটি শুনে তখন তিনি হতবাক হয়ে যান। খবরটি সত্য না মিথ্যা তা বুঝে উঠতেও তার কিছু সময় লেগেছিল বলে তিনি জানান।
নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, টেলিভিশনে তখন ‘জয়বাংলা’র পরিবর্তে ‘জিন্দাবাদ’ এবং ‘বাংলাদেশ বেতার’ নাম পাল্টে ‘রেডিও বাংলাদেশ’ ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছিল। আর একটু পর পরই মেজর ডালিমের কুৎসিত ঘোষণাটি শুনতে হচ্ছিল। হঠাৎ এসব দেখে ও শুনে এবং দেশের কি হবে ভেবে তখন হতাশা তাকে পেয়ে বসেছিল বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, এ হত্যার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর ২৪ বছরের অধিকার আন্দোলন ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ সবই শেষ করে দিতে চেয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধী ওই কুচক্রী গোষ্ঠীটি। কিন্তু তারা তা পারেনি। তিনি আরও বলেন, তবে এ হত্যার কারণে দেশ ও জাতি অনেক পিছিয়ে পড়েছে। -ডেস্ক