(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকার বাংলামোটরে নূর সাফায়েত নামের দুই বছর বয়সী শিশুকে খুনের অভিযোগে গতকাল বুধবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে আসামি করে মামলাটি করেন সাফায়েতের মা মালিহা আক্তার। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সাফায়েতের মা গতকাল রাতে যে অভিযোগ দিয়েছেন, এর ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। সে অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।

উল্লেখ্য, গতকাল বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ির ভেতর থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে ওই শিশুর বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে আটক করে শাহবাগ থানার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সকালে ওই বাসায় এক বাবা তাঁর দুই শিশুসন্তানকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছেন—এমন সংবাদে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যেরা ঘটনাস্থলে যান।

নুরুজ্জামানের ভাই উজ্জ্বল গণমাধ্যমকে জানায়, বাংলামোটরের ১৬ লিংক রোডের দ্বিতীয় তলার নিজের বাসায় দুই শিশু সন্তানকে সাফায়েত ও সুরায়েতকে নিয়ে থাকেন তার ভাই। তবে অনেকদিন থেকে মাদকাসক্ত থাকায় তার দুই স্ত্রীর কেউ তার সঙ্গে থাকেন না। সাফায়েতকে ( তিন বছর) খুন করে তার ভাই সুরায়েতকেও জিম্মি করে রাখে বলেও জানান নুরজ্জামানের ভাই।

ডিএমপির রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এহসানুল ফেরদৌস বলেন, দফায় দফায় বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেও ভেতরে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে মসজিদে মাইকিং করি আমরা যে, সাফায়েত মারা গেছে, বাদজোহর তার নামাজে জানাজা হবে। এরপর কাজলের সঙ্গে মসজিদের হুজুরদের দিয়ে কথা বলানো হয়। তাকে বলা হয়, সাফায়েতের জানাজা পড়াবো, সবাই মিলে মাটি দেবো। আপনি বেরিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে জীবিত শিশুটি (সুরায়েত) নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। তখন মৃত সাফায়েতের মরদেহ নিয়ে বেরিয়ে আসেন আরেক হুজুর। নিচে এলে আমরা কাজলকে ধরে ফেলি।

এহসানুল ফেরদৌস জানান, শিশুটির বাবা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন- সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। তবে মরদেহের ময়না-তদন্ত হলে বোঝা যাবে। -ডেস্ক