-মো. নূর ইসলাম নয়ন

মোঃ নূর-ইসলাম নয়ন (দিনাজপুর২৪.কম) সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে এগিয়ে চলেছি আমরা এগিয়ে চলেছে আমাদের দেশ। বাংলদেশের উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান ধারার সাথে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু পেশাজীবি সংগঠন- এর মধ্যে অন্যতম একটি সংগঠন- বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগ। এই সংগঠনটির জন্ম কথা একটু অন্যরকম। ২০০৪ সালে বন্যাদুর্গত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি ত্রাণ তহবিল গঠন করেন। এই ত্রাণ তহবিলে কিছু টাকা জমা দেয়ার জন্যে গনতন্ত্র আন্দোলনের অন্যতম শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই মোঃ আলী হোসেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত গাড়ী চালকসহ বেশ কিছু মোটরযান চালক তাদের কষ্টর্জিত বেতন ভাতাদি থেকে দশ হাজার টাকা সংগ্রহ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই ত্রাণ তহবিলে জমা দেন। এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী ও প্রগতিশীল মোটর যান চালকদের নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সহযোগী রাজনৈতিক সংগঠন করার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে সবাই সম্মাতি প্রদান করলে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ব্যাক্তিগত গাড়ীর চালক মোঃ জালাল মিঞাকে সভাপতি ও মোঃ আলাউদ্দিন রানাকে সাধারণ সম্পাদক করে-২০০৪ সালের-২৮শে জানুয়ারী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাতিষ্ঠিত করেন-বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগ। কিছু দিন পর শারীরিক অসুস্থার কারণে সংগঠনের সভাপতি মোঃ জালাল মিঞা স্বেচ্ছায় অব্যহতি দিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন জনাব মোঃ আলী হোসেন। এরপর হাঁটি হাঁটি পায়ে পায়ে করে এই সংগঠনটি অতিক্রম করেছে দীর্ঘ ১৬টি বছর। বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগের মুলনীতি হচ্ছে একতা, শক্তি, প্রগতি ও সেবা- এই স্লোগান ধারন করে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- তথা সকল ধর্মে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং শোষন হীন ও দুর্নীতি মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মোটর যান চালক ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের জীবন মান উন্নত করা ও পরিবহন খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা। প্রতিষ্ঠার জন্ম লগ্ন থেকে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি জনাব মোঃ আলী হোসেন সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দদেরকে সাথে নিয়ে দেশের সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশগ্রহন করে আসছেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার আদেশ, নির্দেশ ও পরামর্শক্রমে এই সংগঠনটি পরিচালনা করে আসছেন। বি, এন, পি, জামায়ত ও তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে তত্বাবাধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বিচার পতি কে, এম হাসান, ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বিচারপতি আঃ আজিজ দায়িত্ব ভার গ্রহনের পর তাদেরকে অবসারন ও গনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বাংলাদেশ আওয়ামী মোটরচালক লীগ সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছিলেন। স্বাধীনাতার পর ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রধান মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহন করার পর দেশ ও জাতি গঠন শুরুর প্রাক্কালে সর্বপ্রথম শোষিত, বঞ্চিত ও সমাজের অবহেলিত মানুষদের জন্যে তথা মোটর যান চালকদের জীবন মান উন্নয়নের জন্যে ১৯৭২ সালের ৭ই অক্টোবর সমবায় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অটোরিকসা চালক সমবায় ফেডারেশন লিমিটেড গঠন করেন এবং ্একজন চালককে একজন মালিকে উন্নত করেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট স্বাধীনাতা বিরোধী চক্ররা হত্যা করে। ফলে দেশ হয়ে পড়ে যোগ্য নেতৃত্বহীন। রাষ্ট পরিচালনায় আসে অগনতান্ত্রিক স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এর ফলে দেশের মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এরপর দিন যায় মাস যায়, বছর পরিক্রমায় বার বার ফিরে আসে নতুন আরেকটি দিন। ঠিক এমনি করে আবারও ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী যানজট নিরসন, সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থায় উন্নয়ন ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করেন এবং মোটর যান চালকদের ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ব্যাবস্থা গ্রহন করেন। বর্তমানে এই দায়িত্বটি অত্যন্ত সফলতার সাথে সুসম্পন্ন করে চলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের এম পি। তার যোগ্যে পরিচালনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে সড়ক পরিবহন খাতে আজ যোগ হয়েছে নতুন এক মাত্রা। তবে পরিতাপের বিষয় একটি যে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫০ বছর পূর্ন হলেও ভাগ্যউন্নয় ঘটেনি মটর যান চালকদের। তেমন স্বচ্ছলতাও ফিরে আসেনি তাদের পারিবারিক জীবনে- যদিও খুব সহজেই অর্থ উপাজনের জন্য এই পেশার সাথে আজ সংযুক্ত হচ্ছে অনেক অর্ধশিক্ষিত ও শিক্ষিত যুবক যারা বেকারত্ব দূরকরার জন্য পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন- এই কাজটি। মোটর যান চালকদের প্রতিদিনের কর্মযজও শুরু হয় একটু অন্য ভাবে। সকালের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে তাদের ঘুম ভাঙ্গে- এরপর প্রিয় গাড়ীটা সাথে নিয়ে সময়ের গতিময়তার সাথে পাল্লা দিয়ে অবিরাম ছুটে চলা। কখন তারা ঘরে ফিরবেন কিংবা আদৌ তারা ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা-সে বিষয়ে তারা কিন্তু নিশ্চিত নন। অনেকটা অনিশ্চিত এই পথচলা। কারণ একটু খানি অসতর্ক হলেই মহূর্তের মধ্যেই নিভে যেতে পারে তার জীবন প্রদীপ। তারপরও অদম্য সাহস বুকে নিয়ে প্রতিনিয়ত তারা ছুটে চলেন শহরের এক প্রানÍ থেকে অন্য প্রান্তে- এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। মোটর যান চালকদের জীবন মান উন্নয়নে এবং তাদেরকে আধুনিক সেবা প্রদান সহ উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষে গত ২৬ জানুয়ারী ২০২০ইং তারিখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, মাননীয় প্রধামন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশনায় বাংলাদেশ আওয়ামী মটর চালক লীগের ২য় জাতীয় সম্মেলন ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনায় সম্পান্ন হয়। উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি, বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, দপ্তর সম্পাদক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, আওয়ামী মটর চালক লীগের উপদেষ্টা এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখর-এমপি, উপদেষ্টা সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দেশের ৫৬টি জেলার কাউন্সিলর ও ডেলিগেটবৃন্দের নির্বাচনের মাধ্যমে মোঃ আলী হোসেন সভাপতি ও মোঃ সানোয়ার হোসেন চৌধুরী সাধারণ সম্মাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচিত বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম দূর্বার গতীতে এগিয়ে চলছে। করোনা ভাইরাস মহামারীতে মটরযান চালকরা সরকারী নির্দেশনা পালন করে তাদের জীবনবাজী রেখে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখেছেন।

//////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিষ্ট। -ইমেইল- noyon2040@gmail.com, Mobile : 01772849164