আজহারুল আজাদ জুয়েল (দিনাজপুর২৪.কম) ইতিহাসবিদ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ব্যাপ্তি অনেক বড়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে যতদিন গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণের বিষয়গুলোকে মূখ্য না হবে ততদিন সঠিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটবে না। এগুলো বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হবেনা।
বঙ্গবন্ধু প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন ১ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তিনমাস ব্যাপী গবেষণা প্রশিক্ষণ কর্মসুচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উল্লেখিত অভিমত ব্যক্ত করেন। খুলনায় প্রতিষ্ঠিত ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও যাদুঘর’ এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যাদুঘরের সভাপতি মুনতাসীর মামুন। সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রণয়নের জন্য আমরা সারাদেশে গবেষক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালর আয়োজন করছি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ সবাই একসাথে রাজনীতি করছে। পৃথিবীর কোন দেশে এমন সুযোগ নেই। বাংলাদেশে পাকিস্তানের পক্ষে রাজনীতি করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর আর কোন দেশে অন্য দেশের পক্ষে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয় না। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিতে পরিণত করতে। তবে জামাত-বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের শক্তি হতে পারেনা। তারা কখনো বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেনা। তারা যতদিন থাকবে ততদিন বাংলাদেশে শান্তি আসবেনা। তাই আমাদের কর্মসুচিতে তাদেরকে রাখার সুযোগ নেই।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি হবে বলে মুনতাসীর মামুন অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গবেষণা করে বুঝেছি, মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীর সংখ্যা ৫ লাখের উপর হবে।
গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা প্রশিক্ষণ কর্মসুচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও যাদুঘরের পরিচালক (গবেষণা) ড. মাহবুবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী দিনাজপুর ইউনিটের সভাপতি ও সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক এবং দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মোঃ মোসলেমউদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচারনা করেন বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী দিনাজপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আলী ছায়েদ ও দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক আশা আলো রায়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পী মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। উল্লেখ্য এই কর্মশালায় ৮৫ জন অংশ নিচ্ছেন। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।