(দিনাজপুর২৪.কম) বেশ কয়েকজন নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারের হত্যাকান্ডে বিপজ্জনক মৌলবাদী ইসলামী শক্তির উত্থানের আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকারের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তার ধারণা, তিনি খুন হতে পারেন। তিনি বাংলাদেশে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। তার ৩ বন্ধু ইতিমধ্যেই খুন হয়েছে। ওই ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে, কারণ তারা বাংলাদেশে ধর্মের ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন। খুন হওয়া তিন জনের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যাক্তিটি ছিলেন ওয়াশিকুর রহমান। একদিন সকালে আর দশটা সাধারণ দিনের মতো চাকরিস্থলের উদ্দেশ্যে নিজ বাসা ছাড়েন তিনি। কিন্তু হঠাৎই তার ওপর চাপাতি হাতে তিন ব্যাক্তি হামলা করে। এটা ছিল এক ভয়াবহ ঘটনা। এ নৃশংস ঘটনা যে মূলত একটি বার্তা দেয়ার জন্যই, তা ছিল ¯পষ্ট।
বিবিসির ওই প্রতিবেদনে হেফাজতে ইসলাম স¤পর্কে বলা হয়েছে, সংগঠনটি একটি উগ্র-রক্ষনশীল মুসলিম সংগঠন। যে খুন হয়েছে, সেগুলোর নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। কিন্তু বলেছে, কিছু ব্লগার মারাত্মক ধর্ম অবমাননার অপরাধে অপরাধী। তাদের কঠোর শাস্তি প্রাপ্য। হেফাজতে ইসলাম কঠোর ধর্ম-অবমাননা-বিরোধী আইন প্রণয়নের দাবিতে প্রচার চালচ্ছে। সংগঠনটির নেতা মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ খান বলেন, পবিত্র কুরআনে এটা ¯পষ্ট করে বলা আছে, যারা নবীকে অপমান করবে, তাদেরকে হত্যা করে ফেলতে হবে।
ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার স¤পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ওই ৩ হত্যাকা- আসলেই খুব বিপজ্জনক। এর গুরুত্ব অস্বীকার করার জো নেই। কিন্তু আমি এখনও বলবো, বাংলাদেশ একটি বড় ধরণের চরমপন্থার পথে এগুচ্ছে – এটি বলা হবে প্রকৃত অবস্থার অতিরঞ্জন। তবে ইমরান এইচ সরকার বললেন, হত্যার শিকার ব্যাক্তির পরিবার যদি প্রাপ্য বিচার না পায়, বাংলাদেশ তার সহ্য করার ক্ষমতা হারাবে। ক্রমেই দেশটি পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো উগ্রবাদী ধর্মীয় বা সহিংস দেশে পরিণত হবে। প্রতিবেদনের একেবারে শেষে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনও উদারপন্থী দেশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু ওই হামলার ঘটনাগুলো একেকটি বড় ইঙ্গিত যে, দেশটিতে মৌলবাদী ইসলামপন্থীদের উত্থান হচ্ছে।-(ডেস্ক)