-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করতে এনআরসির প্রতিবাদ জানিয়ে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো ভারতও মুসলমানদের বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই এনআরসি বিল পাস করেছে। কিন্তু নতজানু সরকার এসব নিয়ে কথা বলছে না। বাংলাদেশে লাখ লাখ ভারতীয় অবৈধভাবে চাকরি ও ব্যবসা বানিজ্য করছে তাদের চিহিৃত করে ফেরত পাঠাতে হবে। তিনি ভারতের সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি বাতিল, ফারাক্কা, গঙ্গা, তিস্তাসহ পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও ভারতে ভয়াবহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আগ্রাসন বিরোধী সংগ্রাম জোরদার করার আহবান জানান।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফেলানী হত্যা দিবসে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত আগ্রাসন বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভেমত্বকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। এই অবৈধ সরকারকে যদি দমন করতে হয়, তার একমাত্র পথ হচ্ছে রাজপথের আন্দোলন। তাই ফেলানী হত্যা দিবসে আমরা শপথ করি সমস্ত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদের ঝান্ডা তুলে ধরি। আর প্রতিবাদের মধ্যেই এই সরকারের পতন ঘটবে।

তিনি বলেন, আমরা আজ কিভাবে আক্রান্ত হচ্ছি, আমাদের পাশর্^বর্তী দেশে যে এনআরসি আইন পাস করেছে, এই আইনের মাধ্যমে ভারতের মুসলিম নাগরিকদের তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের আগ্রাসী শক্তির কারনে রোহিঙ্গারা আজ আমাদের দেশে অবস্থান করছে। এখন ভারতের মুসলমানদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, তিস্তার জন্য উত্তরবঙ্গে হাহাকার, মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে, জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাঠে ফসল হচ্ছে না। কৃষকেরা হাহাকার করছে কিন্তু আমাদের কোন প্রতিবাদ নেই, বর্তমান সরকারের কোন প্রতিবাদ নেই।

তিনি বলেন, ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য আমরা কৃষক শ্রমিক জনতা মিলে যুদ্ধ করেছিলাম। এনেছিলাম দেশের স্বাধীনতা। রনাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, কিন্তু আজকে আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, আমাদের স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র নেই, কথা বলার অধিকার নেই। ভোটারবিহীন সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারনে প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না।

সেলিমা রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের কাউন্সিলর এবং (সংরক্ষিত আসন) নারী কাউন্সিলরদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতারা নানান ভাবে চাপ প্রয়োগ করছে, বাড়ি-ঘরে হামলা চালাচ্ছে। আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীকে তারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, এই হলো তাদের পরিকল্পনা। তারা নির্বাচন করবে না, তারা আবারও সিটি করপোরেশন দখলে নিতে চাচ্ছে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, এনডিপি চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, লেবার পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক হুমাউন কবীর, লেবার পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম সাদী, যুবমিশন আহবায়ক মোহেব্বুল্লাহ আল মেহেদী, সদস্য সচিব মোঃ সৈকত হোসেন, ছাত্রমিশন সভাপতি সৈয়দ মোঃ মিলন, সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও আর্ন্তজাতিক সম্পাদক কবি ইকবাল হোসেন প্রমুখ। -ডেস্ক