(দিনাজপুর২৪.কম) সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্বাক্ষরিত হবে।  দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই দুটি এমওইউ বা সমঝোতা-স্মারকের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর করে, ২৫ বছর নয়।  এর একটি দু’দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর ভেতর নিয়ে আসবে।  আর অন্যটি হবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা সংক্রান্ত।

অান্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি’র বরাত দিয়ে ভারতের অনলাইন নিউজ পোর্টাল কলকাতা২৪x৭  এই তথ্য জানিয়েছে।

কলকাতা২৪x৭’র প্রকাশিত এক খবরে জানানো হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা হবে কি না, বা হলেও কী আকারে হবে।  প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ভারতে পা-রাখার ঠিক আগের দিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে প্রতিরক্ষা সমঝোতা হচ্ছে – আর একটি নয়, বরং দুটি।

জানা গেছে, এই সফরে প্রতিরক্ষা বিষয়ক দুটো এমওইউ সই করার পরিকল্পনা আছে।   এর একটা হবে ফ্রেমওয়ার্ক এমওইউ, অর্থাৎ যা দুদেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর ভেতর নিয়ে আসবে।  তবে এটার মেয়াদ ২৫ বছর নয় – কিন্তু ৫ বছর পর পর সাধারণত এই সমঝোতা-স্মারকগুলো আপনি আপনি নবায়ন হয়ে যায়।  এই দুটি প্রতিরক্ষা এমওইউ-তে ঠিক কী থাকবে, তারও একটা ধারণা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ভারতের সামরিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের যে ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আছে এবং আগামী দিনেও যেটাকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।  তার একটা ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো থাকবে এই সমঝোতায়।  প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গবেষণা বা রিসার্চ-ডেভেলপমেন্ট, প্রতিরক্ষা রসদ সরবরাহেরও অবকাশ থাকবে সেখানে।” “আর দ্বিতীয় যে সমঝোতাটা হচ্ছে তার লক্ষ্য হল বাংলাদেশ যাতে তাদের প্রতিরক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু কিছু সরঞ্জাম ভারত থেকে কিনতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা।”  প্রতিরক্ষা খাতে এটাকে দু’দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। -ডেস্ক রিপোর্ট