(দিনাজপুর২৪.কম) ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়ে থাকে নিজ দলের পেসাররা। মূলত পেসনির্ভর বোলিং আক্রমণ গড়েই প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেয়ার কাজটি করে থাকে কিউইরা। যার প্রমাণ মেলে ছোট্ট একটি পরিসংখ্যানে- চলতি গ্রীষ্মের মৌসুমে টেস্ট ক্রিকেটে এখনো পর্যন্ত প্রতিপক্ষের ৫২টি উইকেট নিতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড। বলা বাহুল্য সবকয়টিই এসেছে পেসারদের হাত ধরে। হ্যামিল্টনে সিরিজের প্রথম টেস্টেও টাইগার ব্যাটসম্যানদের নাকাল করেছেন তিন পেসার ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি এবং নেইল ওয়াগনার। সঙ্গে ১ উইকেট নিয়ে অবদান রেখেছিলেন পেসার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমও। তিন মূল পেসার বোল্ট ৬ (১+৫), সাউদি ৬ (৩+৩) এবং ওয়াগনার নিয়েছিলেন ৭ (৫+২) উইকেট। তিন পেসারে সফল হয়ে ওয়েলিংটনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাই পেসার আরও একজন বাড়ানোর কথা ভাবছে নিউজিল্যান্ড। হ্যামিল্টনের তিন পেসার ছাড়া স্কোয়াডে অন্য পেসার হলেন ডানহাতি গতিতারকা ম্যাট হেনরি। যিনি খেলেছেন ওয়ানডে সিরিজে, কাঁপন ধরিয়েছেন টাইগার ব্যাটিং লাইনআপে। এবার টেস্টেও তাকে দলে নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কিউইদের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান টম লাথাম। গতকাল বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে লাথাম বলেন, ‘যেভাবেই হোক আমরা ম্যাচটি জিততে চাচ্ছি। ম্যাচে আমাদের যে সুযোগই আসবে তা কাজে লাগাতে চাই। আমরা এখনো ঠিক করিনি তবে অবশ্যই কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে চার পেসার নিয়ে মাঠে নামার কথা ভাবা হচ্ছে।’ এ সময় ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনার যদি মনে থাকে, ২০১৭ সালেও কিন্তু ওয়েলিংটনে শুরুর দিকে উইকেট ছিল সবুজাভ। প্রথম দিনে এখানে ব্যাটিং করা কঠিন হবে। সিম মুভমেন্টের সঙ্গে থাকবে সুইংও।’ সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুধু শর্ট বল করেই দুই ইনিংসে বাংলাদেশের ৭ উইকেট তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাই শর্ট বলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কোনো সুযোগই নেই বলে জানান লাথাম। আর এ কাজে বিশেষ পারদর্শী নেইল ওয়াগনারের প্রতিও তাই থাকবে বাড়তি চাওয়া। লাথামের ভাষ্যে, ‘আমাদের অবশ্যই উইকেট নেয়ার পথ খুঁজে নিতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের দলের সেই সামর্থ্য আছে। যখন উইকেটে সুইং থাকবে না তখন আপনার হাতে উইকেট নেয়ার পথ কমে যায়। তাই শর্ট বলের দিকে এগুতেই হবে। আমাদের দলে নেইল ওয়াগনারের মতো বিশেষ পারদর্শী বোলার আছে, যে খুব ভালোভাবেই শর্ট বলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে। ওয়েলিংটনেও আমরা তার কাছ থেকে একই জিনিস আশা করছি।’ বোলিং নিয়ে কথা বলতে বলতে লাথাম চলে যান ব্যাটিং প্রসঙ্গেও। স্পষ্ট জানিয়ে দেন ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, ওয়েলিংটনে ব্যাটিং করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবসময়ই উপভোগ করেন। -ডেস্ক