(দিনাজপুর২৪.কম) প্রতিবেশী দেশ হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সীমান্তে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির জন্য মিয়ানমার সরকারকে দেয়া বাংলাদেশের প্রস্তাবকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নাইপিদোতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে মুখ খোলেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলরের এক মুখপাত্র।

জাতিসংঘ, আসিয়ান, আইসিআরসি এবং ওআইসির মাধ্যমে দুইদেশ সংযোগকারী সীমান্তে একটি নিরাপদ অঞ্চল সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই প্রস্তাবে কোনো ধরনের আগ্রহ না দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমার টাইমস এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে স্টেট কাউন্সিলর মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ইউ জ হোতে কে উদ্ধৃত করে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রত্যাখান করছে। একবার এমন অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানকরা এর নিয়ন্ত্রণ নেবে।

অং সাং সুচির আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণও ব্যাখ্যা করে হোতে বলেন, ‘সুচি জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ না দেয়ার পরিকল্পনার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে, এর ফলে তিনি চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করতে পারবেন এবং রাখাইন প্রদেশের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, সুচির জাতিসংঘ সফর বাতিলের পেছনে আরও কারণ রয়েছে। বারবার সন্ত্রাসী হামলার হুমকির মধ্যে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোড়দার ও প্রতিষ্ঠা করতে নিজস্ব শক্তি সামর্থ্য কিছু বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

মিয়ানমারের সেনা হামলার মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার মধ্যেই গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সেইসব শরণার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাখাইন রাজ্যের তিনটি এলাকায় নিরাপদ অঞ্চল গঠন করা যেতে পারে। চলমান সহিংসতায় যারা বাস্তুভিটা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের তত্ত্ববধানে এই তিন অঞ্চলে তারা অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিতে পারবেন। -ডেস্ক