(দিনাজপুর২৪.কম) সফরকারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বৃষ্টি বিঘিœত ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হবে ১৭৯ রান। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়াসরা ৯ উইকেটের বিনিময়ে সংগ্রহ করেছে ১৬৮ রান। কিন্তু ডাক ওয়ার্থ লুইস মেথডে এর সাথে আরও ১ রান যুক্ত করে বাংলাদেশকে টার্গেট দেয়া হয়েছে ১৭০ রানের। সন্ধ্যায় বৃষ্টির থামার পর খেলা শুরু হলেও আগের মতোই চাপে থাকতে হয়েছে সফরকারিদের। তবে বৃষ্টির কারণে খেলার দৈর্ঘ কমানো হয়েছে ১০ ওভার। অর্থাৎ এখন খেলা হচ্ছে ৪০ ওভারের। তারও আগে বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচের খেলা বন্ধ ছিল প্রায় ৩ ঘণ্টা। বৃষ্টিার পর খেলার ২৯তম ওভারের শেষ বলে দলকে ব্র্যাক থ্রু এনে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরান ৪৪ রানে ক্রিজে থাকা ডেভিড মিলারকে। তার খেলা ৫১ বলে ছিল ৫টি বাউন্ডারি। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফ্রিকানরা।
বৃষ্টিার আগে ধুকতে থাকা আফ্রিকানদের অক্সিজেন দিচ্ছিলেন ডুমিনি ও মিলার। ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মিলার, ডুমিনি ছিলেন ৮ রানে। ৭৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বৃষ্টির সময় ড্রেসিং রুমে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ডুমিনিই দালের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত ছিলেন। এর জন্য তিনি খেলেছেন ৬৯ টি বল; যাতে ছিল ৩টি বাউন্ডারি।
আজকের এ ম্যাচের শুরুতেই দেখা গেছে, মাশরাফি বিন মর্তুজা বোলিং পরিবর্তন করলেই সাফল্য এসেছে। মাহমুদ উল্লাহ আসলেন আর নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই তুলে নিলেন ১৭ রানে ক্রিজে থাকা রাইলে রুসোকে। তখন ৫০ রানে ৪ উইকেট দক্ষিণ আফ্রিকার। জেপি ডুমিনি ও ডেভিড মিলার ২৮ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।
কুইন্টন ডি কক ম্যাচের তৃতীয় আর বাংলাদেশের তরুণ বাঁ হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় ওভারের বলেই বোল্ড। মাত্র ৫ রান করেছেন। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, ৩ ম্যাচের কোনোটিতেই প্রোটিয়াদের উদ্বোধনী জুটি তেমন কিছু করতে পারলো না। এ ম্যাচে দলের ৮ রানের সময় প্রথম উইকেট পড়লো। প্রথম ওয়ানডেতে ১৬ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ২২ রানে বাংলাদেশ ভেঙ্গেছিলো সফরকারীদের উদ্বোধনী জুটি।
মুস্তাফিজের পর অষ্টম ওভারে আবার আঘাত হানে টাইগাররা। সাকিবের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সুইপ করতে গিয়ে বলটাকে আকাশে উড়িয়ে দেন ৬ রানে থাকা বিপজ্জনক ডু প্লেসিস। মুশফিকুর রহিমের ক্যাচটা নিতে সমস্যাই হয়নি। এ জোড়া আঘাতে চট্টগ্রামের গ্যালারি উঠেছে জেগে।
এরপর আমলা যখন ১৪ রানে তখন সাকিবের বলে উঠে যাওয়া ক্যাচটা নিতে পারেন নি সাব্বির। কিন্তু পরে উইকেটের পেছনে সাকিবের বলে মুশফিক নিয়েছেন চমৎকার ক্যাচ। আমলা করেছেন ১৫ রান। দলের ৪৫ রানে পড়েছে তৃতীয় উইকেট। আমলা হয়েছেন সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ারের ২০০তম উইকেট। ৩৩ রান দিয়ে দলের পক্ষে ৩টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আর ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ। এছাড়া ১টি করে উইকেটে পেয়েছেন মাশরাফি, মাহমুদুল্লাহ ও রুবেল।
এর আগে এ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস হেরে ফিল্ডিং নিয়েছে বাংলাদেশ। ১-১ এ সমতা এ সিরিজে ২ দলের জন্যই ম্যাচটি দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচটাই তাই হয়ে গেছে ফাইনালের মতো। যে জিতবে সিরিজ তার। বাংলাদেশ উইনিং কম্বিনেশন ভাঙ্গেনি। তবে ক্রিস মরিসের জায়গায় প্রোটিয়ারা একাদশে নিয়েছে মর্নে মর্কেলকে।
চট্টগ্রামের দর্শকরা টানটান উত্তেজনার একটি ম্যাচ দেখার অপেক্ষায়। তবে সকালে বৃষ্টি হয়েছে। এখন বৃষ্টি নেই। তারপরও বৃষ্টির বাগড়া দেয়ার শঙ্কাটাকে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রামের এ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক লাকি গ্রাউন্ড। যদিও এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৮ এ খেলা একমাত্র ম্যাচটি বাজেভাবে হেরেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু এ মাঠেই ১৫ ম্যাচের ৯টিতেই জেতার রেকর্ড টাইগারদের। এর মধ্যে আছে ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেই বিখ্যাত হারানো ম্যাচটাও। ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও এখানে শোচনীয় পরাজয়েরও মুখোমুখি করেছে বাংলাদেশ।(ডেস্ক)