(দিনাজপুর২৪.কম) পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয়কারী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় মানব পাচারকারী চক্রের মাথা শাহীন খন্দকারের খোঁজে জোর তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা পুলিশ সিআইডি। মানব পাচার রুখতে গঠিত হওয়া ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স-এর ঢাকা ইউনিট থেকে রাজ্য সরকারকে পাঠানো এক বার্তার পরই নড়েচড়ে বসেছে সিআইডি। র‌্যাবের হাত থেকে শাহীনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লিও।

জানা গেছে, তুরাগের একটি বহুতল ভবনে নিজের বাসা থেকেই নারীদের একটি পে­সমেন্ট এজেন্সি চালাত শাহীন। গত সপ্তাহেই তার বাসায় শাহীনের সন্ধানে যায় বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। কিন্তু তার আগেই গা ঢাকা দেয় সে। তবে শাহীন পালালেও র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে সীমা আখতার ওরফে মৌসুমী নামে তার এক সহযোগীসহ মোট সাতজন। বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে নয়জন নারীকে। এরমধ্যে ছয়জনকে মধ্য এশিয়ায় এবং বাকী তিনজনকে ভারতের চেন্নাইয়ে পাচার করার উদ্যেশ্য ছিল বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নে এই বার্তা আসার পরই শাহীনকে ধরতে তোড়জোড় শুরু করেছে সিআইডি। দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্তকতা।  পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রালয় সূত্রে খবর, ‘পে­সমেন্ট এজেন্সি’র আড়ালে গত কয়েকবছর ধরে মানবপাচারের কাজ করত শাহীন এবং সীমা। এই ক’বছরে কয়েক হাজার বাংলাদেশি নারীকে ভারতের বিভিন্ন শহরে পাচার করা হয়েছে। এরপর সেখান থেকে হাত ঘুরে পতিতালয়ের কাজ করতে বাধ্য করা হতো নয়তো আরবের মতো ধনী দেশে বিক্রি করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

নাম না জানানোর শর্তে সিআইডি’এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ভারতের মধ্যে মুম্বাই, পুনে, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই-এই শহরগুলি মানব পাচারকারীদের জন্য আদর্শ জায়গা। ইংরেজি জানা নারীদের এই অঞ্চলের একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, মধ্যম শ্রেণির কর্পোরেট হাউজগুলোতে রিশেপসনিস্টের কাজের লোভ দেখিয়ে এখানে পাঠানো হয়। আর একবার ভারতে প্রবেশ করা মাত্রই সেই সব নারীদের দিয়ে বেশ্যা বৃত্তির কাজে বাধ্য করে শাহীনের লোকজনেরা।

পশ্চিমবঙ্গে মানবপাচার বিরোধী ইউনিটের মূল দায়িত্বে রয়েছে সিআইডি। মানব পাচার রুখতে প্রায়ই বৈঠকে বসেন দুই দেশের ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স’-এর প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে ভারতের তরফে ৫৫৬ জন বাংলাদেশি মানব পাচারকারী এবং ৫১৪ জন এজেন্টদের একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয় প্রতিবেশি রাষ্ট্রের হাতে। একইসঙ্গে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে শাহীনের একাধিক আস্তানার একটি তালিকাও তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশের হাতে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলাতেও শাহীনের ঘাঁটি আছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলের যোগসাজশে শাহীনের এজেন্টরা এই কাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ। (ডেস্ক)