(দিনাজপুর২৪.কম) বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়ে প্রতিবাদ করে অদ্ভুতভাবে শাস্তি পান সালি মুনতারি। লালকার্ড দেখার পাশাপাশি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন ঘানার এ ফুটবলার। কিন্তু তার সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো ইতালিয়ান সিরি আ’র ডিসিপ্লিনারি কমিটি। এতে খুশি মুনতারি। এমন সিদ্ধান্তে বর্ণবাদী আচরণের শিকার মানুষরা প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পাবেন বলে মনে করেন তিনি। ইউরোপিয়ান ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। ক’দিন আগে ইতালিয়ান সিরি আ’য় দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। কালিয়ারির বিপক্ষে মাঠে নামে পেসকারা। ম্যাচের এক পর্যায়ে পেসকারার ঘানাইয়ান ফুটবলার সালি মুনরাতির প্রতি প্রতিপক্ষের দর্শকরা বর্ণবাদী মন্তব্য ছোড়ে। এ সময় মুনতারি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ম্যাচ সাময়িক বন্ধ করে বর্ণবাদী মন্তব্যকারীদের দেখতে বলেন মুনতারি। কিন্তু রেফারি সেদিকে নজর দেননি। উল্টো এই ‘অপরাধে’ তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এতে মুনতারি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি গ্যালারির দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের শরীরের দিকে হাতের আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘হ্যা, হ্যা, এটাই আমার শরীরের চামড়ার রঙ।’ রেফারি এবার আরো অভব্য আচরণ করেন। তিনি এবার আরেকটি হলুদ দেখিয়ে মুনতারিকে মাঠছাড়া করেন। এরপর ইতালিয়ান সিরি আ’র ডিসিপ্লিনারি কমিটি মুনতারিকে ওই ‘অপরাধের’ জন্য এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে ইউরোপের ফুটবলাঙ্গনে তোলপাড়। অনেক খেলোয়াড় সিরি আ’ লীগ বয়কটের ডাক দেন। বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় অবাকের শেষ মাত্রায় পৌঁছে যান অনেকে। বিষয়টি নিয়ে অনেক সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা কথা বলেন। তবে অবশেষে সিরি আ’র ডিসিপ্লিনারি কমিটি মুনতারির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জানার পর মুনতারি বলেন, ‘ইতালিতে এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট। এর অর্থ হলো, তুমি তোমার অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিবাদ করো। অবশেষ কেউ আমার কথা শুনলো। গত কয়েকদিন ধরে আমি খুব কঠিন সময় পার করেছি। খুবই ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত ছিলাম। রেফারির অমন আচরণে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়ে তার প্রতিবাদ করার ফলে কিভাবে একজন মানুষকে শাস্তি দেয়া হয়? আশা করি, ভবিষ্যতে আমার মতো যারা বর্ণবাদী আচরণের শিকার হবেন তারা এই ঘটনা থেকে সাহায্য নেবেন। -ডেস্ক