(দিনাজপুর২৪.কম) আজ শনিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩০ সালের এইদিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির জনকের হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেন। দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃকি সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এদিকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে আজ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশবাসীকে সাথে নিয়ে পালন করতে আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল সাড়ে ৮টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ ফজিলাতুন্নেছার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। মহিলা আওয়ামী লীগ বাদ জোহর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগও বনানী কবরস্থানে বেগম ফজিলাতুন্নেছার কবরে শ্রদ্ধা জানাবে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বাদ আছর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃকি জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে। যুবলীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
‘ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল একজন সাবেক রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিনীই নন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধীকার আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। তিনি ছায়ার মত অনুসরণ করেছেন প্রাণপ্রিয় স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। এই আদর্শ বাস্তবায়নে তিনি জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন, এজন্য অনেক কষ্ট-দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাকে। তার এই অবদান বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বেগম ফজিলাতুন্নেছা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বলেন, বঙ্গমাতার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল। মনেপ্রাণে তিনি একজন আদর্শ বাঙালি নারী ছিলেন। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, অসীম ধৈর্য্য ও সাহস নিয়ে তিনি সব প্রতিকূলতা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। জীবনে কোন বৈষয়িক চাহিদা ও মোহ তার ছিল না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবনের স্মরণীয় সময় কাটিয়েছেন কারাগারে। তার অবর্তমানে মামলা পরিচালনা, দলকে সংগঠিত করা, আন্দোলন পরিচালনায় পরামর্শ দেয়াসহ প্রতিটি কাজে বঙ্গমাতা অত্যন্ত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শুধু তাই নয় তিনি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেন এবং অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস ও মনোবল যুগিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে।
সংসদ উপনেতা বলেন, কোন লোভ-লালসা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, তবে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত এক প্রতিষ্ঠান। বঙ্গমাতা যে আদর্শ রেখে গেছেন তা এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে বাঙালি নারীদের যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। -ডেস্ক