(দিনাজপুর২৪.কম) আগামী মাস অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সুসম্পন্ন হয়েছে। শনিবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কামিশন- বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। ৭ বছরে বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে বলেও জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস।
ফ্রান্সের মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘থ্যালেস’ এর তৈরি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের’ প্রকল্প ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার আয় ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয় সম্মেলনে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান আগামী ৭ বছরের মধ্যে প্রকল্পের পুরো ব্যয় উঠে আসার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিপুল বিদেশি অর্থ আয়ের আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ট্রান্সপন্ডার ভাড়া বাবদ বার্ষিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশেই থাকবে বলেও জানান তিনি।
ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এটাই প্রথম, তবে এটাই শেষ না। এরপর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ২ আসবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ৩ আসবে। বাংলাদেশের ভেতরেই সেলিব্রেশনটা থাকবে, তার অগ্রভাগে থাকবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে যেখান থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে তার অগ্রভাগে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি অ্যাডভাইজার সজীব আহমেদ জয়।
স্যাটেলাইট ব্যবস্থাপনায় সরকারের নতুন বিভাগ খোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে এসপিআই’র ম্যানেজিং পার্টনার শফিক চৌধুরী বলেন, এতে সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আসার পরে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অবশ্যই অনেক কম টাকায় চ্যানেলে অ্যাকসেস পেতে পারবে ডিটিএইচ অপারেটর দিয়ে। এরপর আমাদের স্যাটেলাইটের যে পাওয়ার রয়েছে, এটার কারণে চ্যানেলের কোয়ালিটি খুব ভালো হবে।
চন্দ্র অভিযানে প্রথম মানব নীল আর্মস্ট্রং-এর রকেট উৎক্ষেপণের সেই একই উৎক্ষেপণ প্যাড থেকে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে। এটি গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় নেবে ৮ দিন। আর এই স্যাটেলাইটটি কাজ শুরু করবে একমাস পর। -ডেস্ক