(দিনাজপুর২৪.কম) ইতিহাসের মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যিনি একদিন হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি। অধিকারহারা একটি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবে। দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।
আজন্ম সংগ্রামী এই নেতা সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠেন একটি জাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার সাহসী, আপসহীন নেতৃত্ব ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হয়ে জেগে ওঠে নির্যাতিত, নিপীড়িত পরাধীন বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ও মুক্তির অদম্য সপৃহায় ঐক্যের সুতোয় ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন পুরো জাতিকে। দিয়েছিলেন মরণপণ লড়াইয়ের মূলমন্ত্র। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ নয় মাস লড়াইয়ের পর জন্ম নেয় একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। মাতৃভূমি স্বাধীন করার লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতিত জনতার অধিকার আদায় ও জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে যে ক’জন নন্দিত নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের মধ্যে প্রথম সারির একজন। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন বাঙালিরা আসলে প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। এ উপলব্ধি থেকে ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে দেশে ফিরে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে ছাত্রলীগ গঠন করেন। লক্ষ্য ছিল অধিকারহারা বাঙালিকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করা। ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন তিনি। এটাই ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের একমাত্র বিরোধী দল। তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান নবগঠিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। এরপর তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। তবে পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনের বিপুল জয় মেনে নেয়নি। বঙ্গবন্ধু নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন ও চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের ওপর চালায় গণহত্যা। বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাধীনতার ঘোষণা ও বিদ্রোহের অপরাধে সেখানে তার গোপন বিচার হয়। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বীর বাঙালি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। বিশ্ব জনমতের চাপে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পাকিস্তান থেকে লন্ডন হয়ে দেশে ফেরেন বাঙালির প্রিয় এই নেতা। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি স্বদেশভূমিতে ফিরে এসে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন তিনি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে মাত্র সাড়ে ৩ বছর বেঁচেছিলেন। পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তাকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। -ডেস্ক