(দিনাজপুর২৪.কম)  ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর বিদ্যোহী গ্রামে বউয়ের অত্যাচারে শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী বাড়ী ছাড়া হওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। সরেজমিনে জানা গেছে, উক্ত থানার ১১নং ইউপি’র জগন্নাথপুর বিদ্যোহী গ্রামের আব্দুস সোবহান লিখিত অভিযোগে জানান, তার পুত্র আব্দুল আজিজকে ইসলামী শরা শরিয়ত অনুযায়ী শাকিনা পারভীনের সহিত বিবাহ দেন। ২ কন্যা ১ পুত্রসহ স্ত্রীকে রেখে হার্ট স্টোক করে আবদুল আজিজ মারা যায়। আব্দুল আজিজের জীবদ্দশায় তার পিতা আব্দুস সোবহান উক্ত গ্রামের ৯১ শতক জমি হেবা/অছিয়ত নামা দলিল সম্পাদন করে দেন। আব্দুল আজিজ মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী শাকিনা পারভীন উক্ত সম্পত্তি নিজে মালিক সাজার জন্য বৃদ্ধ শ্বশুড় আব্দুস সোবহান ও বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী রওশন আরাকে দেখাশোনার কথা ভুলে গিয়ে নির্যাতন শুরু করে। এই নির্যাতন এক পর্যায়ে রমজান মাসে ৩/৪ রোজায় রান্না করে খাওয়ানো তো দুরের কথা শ্বশুড়কে দাঁড়ি ধরে টানা হেচড়া, কিলঘুষি মেরে অসুস্থ করে ফেলে। শ্বশুড় আব্দুস সোবহান ও তার স্ত্রী আত্মচিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে তাদের রক্ষা করে। আমাদের প্রতিনিধিকে গ্রামবাসী রশিদা, রাবেয়া, মরিয়ম, জাহিদুরসহ অনেকে অভিযোগ করে জানায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর শাকিনা বেপরোয়া হয়ে উঠে। শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীসহ গ্রামবাসীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করার কারণে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। শাকিনার সন্ত্রাসমুলক এহেন আচরণের প্রেক্ষিতে তার শুশ্বড় আব্দুস সোবহান ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানায় গত ৪ মার্চ ২০১৪ ইং সালে সাকিনা ও মোঃ হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি জিডি করে। জিডি নং-১৫৫। পরবর্তীতে গত ৪ রমজানে শাখিনার পুত্র সম্রাটকে মারধর করায় তার দাদা আব্দুস সোবহান প্রতিবাদ করে এতে শাখিনা ক্ষিপ্ত হয়ে তার শ্বশুড় সোবহানের দাঁড়ি ধরে মারধর করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এলাকার নূরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ রশিদা বেগম, মজিবর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ রাবেয়া খাতুন, মৃত খাতির উদ্দিনের পুত্র মজিবর রহমান ও তার পুত্র জাহিদুর রহমানদ্বয়দের কারণে আব্দুস সোবহানসহ তার স্ত্রী প্রাণে বেঁচে যায়। এহেন ঘটনায় সেদিন থেকে লোক লজ্জায় অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে আব্দুস সোবহান তার বোনের বাড়ি চলে গিয়ে অদ্যাবধি অবস্থান করছে। আমাদের প্রতিনিধিকে আব্দুস সোবহান জানান। যে পুত্র বধুর হাতে নির্যাতিত হওয়ার পর মনে হয়েছিল আত্মহত্যা করি। কিন্তু ৩ কন্যা মায়ার কারণে আত্মহত্যা করি নাই। আরো জানায় গত ২৫-০৮-২০১৫ ইং তারিখ বিকেলে বাড়ির বাহিরে উত্তর দিকে একাকী পেয়ে হুমকি দেয় যে, কোন কাজে বাঁধা দিলে অর্থাৎ আমি আমার ছেলেকে ৯১ শতক জমি হেবা / অছিয়ত করে দেই। সেই জমি অন্যত্র হস্তান্তর কাজে বাঁধা দিলে ্আমাকে মারপিট খুন ও জখম করিবে। এমনকি রাস্তা ঘাটে, হাট-বাজারে একাকী পেলে অপমান অপদস্ত করিবে। সেই ভয়ে আব্দুস সোবহান গত ১২-০৮ ২০১৫ ইং তারিখে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৭ সিএস ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ঠাকুরগাঁও মোঃ হাফিজ উদ্দিন, শাকিনা পারভীন, মোছাঃ মালেকা খাতুন, মোঃ কামরুজ্জামান দ্বয়ের বিরুদ্ধে মামলা আনয়ন করেন। গত কিছুদিন পূর্বে উপরোক্ত আসামীগণের কুপরামর্শ ও সাহায্যে শাকিনা বাড়ি থেকে গরু-বাছুর, ছাগল, ৪ বস্তা চাল, কাপড় চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাতের অন্ধকারে বের করে পিত্রালয়ে নিয়ে যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানান। আমাদের প্রতিনিধিকে স্থানীয় তারাবউদ্দিনের স্ত্রী মনসুরা জানায় ৯২ হাজার টাকার বিনিময়ে উক্ত হেবা / অছিয়তের জমি ৫৫ শতক ৭ মাস পূর্বে বন্ধক নিয়েছে। এ ব্যাপারে গ্রামবাসীসহ আব্দুস সোবহান ও তার স্ত্রী তদন্ত সাপেক্ষে সুবিচার পাওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আব্দুস সোবহানের বাড়ী পতিত অবস্থায় রয়েছে। -মোঃ ওয়াহেদুর রহমান