(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও খণ্ডিত অংশের প্রচার বলে অভিযোগ করে তাকে ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিতর্কিত করতে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়’ হীন চক্রান্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুর এ মন্তব্য করেন। এ সময় তার সম্পর্কে ‘ভুল’ সংবাদ পরিবেশন করায় তিনটি গণমাধ্যমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘অডিওটির প্রথম অংশের কথোপকথন ছিল আমার খালা ও আমার পরিচিত এক ভাইয়ের সঙ্গে। যেখানে আমার খালার কনস্ট্রাকশান ফার্মের ১৩ কোটি টাকার একটি কাজের ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছিলাম। যা একান্তই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়।’

গত মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নুরুল হক নুরের সঙ্গে মোবাইলে দুজন ব্যক্তির কথোপকথনের অডিও প্রচারিত হয়। অডিওর ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়, ভিপি নুর আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। এরপর তার পদত্যাগের দাবি করে বুধবার ডাকসু ভবনে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। পরে সেই তালা খোলা হয়। এর আগে ভিপি নুরের পদত্যাগ ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ডাকসু ভবনের সামনে মানববন্ধন করে কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন নুর। এতে তিনি বলেন, বেসরকারি দুটি টেলিভিশন চ্যানেলে তার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপের খণ্ডিতাংশ বিকৃতভাবে প্রচার করে তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর ফলে তার সম্মানহানি ও জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

নুর জানান, অডিওটির প্রথম অংশের কথোপকথন ছিল তার পরিচিত এক ভাইয়ের সঙ্গে, যেখানে তার খালার কনস্ট্রাকশন ফার্মের ১৩ কোটি টাকার একটি কাজের ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে তিনি আলোচনা করেছিলেন। এটা একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়। কিন্তু দুটি টেলিভিশন চ্যানেল বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে। বলা হয়, তিনি প্রকল্প কর্মকর্তার সঙ্গে ১৩ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ নিয়ে তদবির করছেন। একইভাবে একটি অনলাইনেও এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, তিনি কোনো প্রকল্প কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেননি কিংবা কোনো তদবির করেননি।

ডাকসু ভিপি বলেন, অডিও ক্লিপটির দ্বিতীয় অংশে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে তার কথোপকথন প্রচারিত হয়। এ নিয়ে দুটি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, তিনি প্রবাসী কোনো এক ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন। আরেকটি চ্যানেল প্রচার করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বিএনপি নেতার কাছে তিনি আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনাটি ছিল, জনৈক প্রবাসী ফোন করে তাকে সহযোগিতার কথা বলেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি নাকচ করে দেন। পুরো ফোনালাপটি শুনলে আমার কথার সত্যতা পাওয়া যাবে।

নুর আরও বলেন, আশ্চর্যের বিষয় ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করার ক্ষেত্রে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করে তা গণমাধ্যমে প্রচার সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনবিরোধী কাজ। তা ছাড়া তথ্য বিকৃত করে সংবাদ পরিবেশন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী অপরাধ।

তাই ভিপি ভুল সংবাদ পরিবেশন করায় ওই তিন সংবাদমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করার কথা বলেন। অন্যথায় তিনি ওই তিন সংবাদমাধ্যম বর্জন করাসহ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হাসানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।  -ডেস্ক