(দিনাজপুর২৪.কম) ফেসবুকে আবেগঘন ও ক্ষোভের স্ট্যাটাস দিয়ে তালায় ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ হোসেন বাবু আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার বিকালে নিজ বাড়িতে বিষপান করলে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় এদিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। রিয়াদ হোসেন বাবু উপজেলার হরিশ্চন্দ্রকাঠি গ্রামের শেখ মনজুর রহমান এর ছেলে।
রিয়াদ এর চাচা মিজবাহ রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সে নিজ বাড়িতে বিষপান করে। তৎক্ষনাত তাকে তালা হাসপাতালে আনা হলে সন্ধ্যা ৬টা দিকে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল বলেন, তালা হাসপাতাল থেকে বাবু’র মৃত দেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। শনিবার সাতক্ষীরা মর্গ থেকে তার মৃতদেহ’র ময়নাতদন্ত করা হবে।
এদিকে, বিষপানের মাত্র ২০মিনিট আগে রিয়াদ হোসেন বাবু তার “ত্যাড়া মুন্সী বাবু” ফেসবুক আইডিতে পারিবারিক আবগঘন এবং রাজনৈতিক বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস আপলোড করে। এঘটনায় ছাত্রলীগ এবং দলমত নির্বিশেষে নেটিজেনদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বাবুর মৃত্যুর পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে এই মৃত্যুতে ক্ষোভ ও হতাশ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিতে থাকে নেটিজেনরা।
সূত্র জানায়, রিয়াদ হোসেন বাবু’র মা প্রায় ২ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বাবু। এরমধ্যে বাবু’র ছোট বোন’র বিয়েকে কেন্দ্র পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হলে বাবু’র মানষিক অবস্থার চরম খারাপ হতে থাকে। এইসাথে ছাত্রলীগের পদ না পাওয়ার ক্ষোভ তাকে গ্রাস করে। যা সে তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসগুলোতে উল্লেখ করেছেন।
এসব মানষিক চাপ এর কারনে বাবু গত প্রায় ১সপ্তাহ ধরে কীটনাশক কিনে নিজের ঘরে রাখে এবং আত্মহত্যা বিষয়ে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে বলে- ফেসবুকে তার দেয়া স্ট্যাটাস থেকে জানা গেছে।
তার অকাল মুত্যুকে কেন্দ্র করে তালায় ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক এবং রাজনৈতিক কারনে তরতাজা যুবক রিয়াদ হোসেন বাবুর মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেনা!
এবিষয়ে জানতে চাইলে তালা উপজেলা ছাত্রলীগ’র সভাপতি শেখ সাদী ঘটনায় দুঃখ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেন, বাবু তালা উপজেলা বা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ছাত্রলীগ’র কোনও কমিটিতে নেই। তাছাড়া পূর্বে কখনও কোনও পদে ছিল কিনা তা’ জানা নেই। তবে, তালা উপজেলা ছাত্রলীগ’র সাবেক সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমান জানান, তাঁর সময়ে রিয়াদ হোসেন বাবু খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রকাঠি ওয়ার্ড ছাত্রলীগ’র সভাপতি ছিল।
এবিষয়ে রিয়াদ হোসেন বাবু’র চাচা শেখ মিজবাহ রহমান বলেন, বাবু ছোটকাল থেকে সক্রিয় ভাবে ছাত্রলীগ করতো। বর্তমানে খুলনা বিএল কলেজে মাস্টার্স পড়ছে।
তিনি বলেন, পারিবারিক কারনে বাবুকে বিয়ে দেয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও সে ছাত্রলীগ করার কারনে বিয়ে করেনি।
বাবু খলিলনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ’র সভাপতি পদ পাবার জন্য দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং টাকা খরচ করার পরও পদ না পাওয়ায় সে হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিলো।