(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতে একদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ২৪২ জন। মারা গেছেন রেকর্ড ১৫৭ জন। এদিকে সোমবার থেকে দেশটিতে ১৪ দিনের নতুন লকডাউন শুরু হলো। এ নিয়ে চার দফায় ৬৮ দিনের লকডাউন পালন করছে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারত। তবে নতুন দফায় লকডাউনে বেশ কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে মোদি সরকার।

ভারতে বাড়ল আরও ১৪ দিনের লকডাউন। নতুন লকডাউন চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।

রবিবার জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর তরফে আরও দু’সপ্তাহ লকডাউন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। তার পরেই এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিবৃতি জারি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্যে রবিবার রাত ৯টায় বৈঠকে বসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব গৌবা। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চতুর্থ দফার লকডাউনের শর্তাশর্তও।

এই দফায়, চালু হতে চলেছে আন্তঃরাজ্য পরিবহণ পরিষেবা। সেক্ষেত্রে যে দুই রাজ্যের মধ্যে পরিবহণ হবে, সেই দু’পক্ষেরই অনুমতি লাগবে। রাজ্যের ভিতরে বাস ট্যাক্সি-সহ অন্য গণপরিবহণের সুবিধে কতটা পাওয়া যাবে তা ঠিক করবে রাজ্য প্রশাসনই। অন্য দিকে, এবার রাজ্যের সংক্রমণ পরিস্থিত বিচার করে সমস্ত জোনগুলি ঠিক করার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে রাজ্যকেই। ব্যবসায়িক স্বার্থে যে সব গাড়িগুলি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্য যায়, সেগুলিকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আটকানো যাবে না খালি ট্রাককেও। কেন্দ্রের গাইডলাইন অনুয়ায়ী, এই দফাতেই বন্ধ থাকছে স্কুল-কলেজ। সিনেমাহল,শপিং মল খুললেও তাতে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন না। বন্ধ থাকবে মেট্রো রেল পরিষেবাও।

২৩ মার্চ ভারতে লকডাউন শুরু হয়। একদিকে যেমন ধাপে ধাপে বেড়েছেন লকডাউনের মেয়াদ, বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও। পরিসংখ্যানের নিরিখে চিনকে ছাড়িয়ে ভারত দাঁড়িয়ে রয়েছে এক লক্ষের দরজায়। এর সঙ্গে বাড়তি মাথাব্যথা ভেঙে পড়া অর্থনীতি। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে শেষ ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েই রেখেছিলেন, এই লকডাউনের শর্ত অন্য ধাপগুলির থেকে আলাদা হবে।

সূত্রের খবর এই লকডাউন বিধি ঠিক করতে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ একাধিক দফতরের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রতিটি রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে আলাদা করে। নতুন ধাপে পরিবহণের ক্ষেত্রে বাড়তি ছাড় দেওয়া হবে বলেই স্থির হয়।

এ দিন সকালেই তামিলনাড়়ু এবং মহারাষ্ট্র আরও এক দফা লকডাউন বাড়ানোর কথা জানিয়ে দেয়। অন্য দিকে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছিল, কেন্দ্রের নির্দেশিকা না পাওয়া যাওয়ায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত পুরনো বিধিই বলবৎ থাকবে। -ডেস্ক