(দিনাজপুর২৪.কম) জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার ১৩ দিনের মাথায় জি এম কাদেরকে আবার ওই পদেই বহাল রেখেছেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাংগঠনিক নির্দেশনায় ছোট ভাই জি এম কাদেরকে পুনর্বহাল করেন তিনি। এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়াম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনীতির মাঠে নেতৃত্ব নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। জাতীয় নির্বাচনের আগে পরে বহু নাটকের জন্ম দিয়েছেন সাবেক এই স্বৈরাচার। এবার নিজ দলের কো-চেয়ারম্যান পদটি নিয়ে ঘরের রাজনীতিতে ফের নতুন নাটকের মঞ্চ তৈরি করেছেন এরশাদ। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারো শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। দেশের প্রধান বিরোধী দলের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক ও মিডিয়াপাড়ায় আবারো সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা বিষয়টিকে এরশাদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকেই বলছেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করাও সময় নষ্টের শামিল। তথ্য মতে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনীতি ও সুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত অনেক আগে থেকেই। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ ‘নাটকীয় অসুস্থতা’ নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সরকারকে আত্মহত্যার ভয়ও দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সিএমএইচে ভর্তি থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার নিজ দলের নেতাকর্মীদের সাথে শুরু হয়েছে ওই ধরনের রাজনীতি। যা নিয়ে দলটির ভেতর-বাইরে একই আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২২ মার্চ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সাংগঠনিক নির্দেশনায় জাপার কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা পদ থেকে জি এম কাদেরকে অব্যাহিত দিয়েছিলেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। সে সময় তিনি তার স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। জি এম কাদেরকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার কারণে দলটির নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। শিথিল হয়ে পড়ে দলের কার্যক্রম। শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেই নয়, একই প্রভাব পড়ে দলটির তৃণমূল রাজনীতিতে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা পদে পুনর্বহালের দাবি জানায় দলটির ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। এ জন্য গত বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তারা ওই দাবি জানান। মানববন্ধনে জাতীয় পার্টি ঐক্যজোটের সভাপতি শফিউল্লাহ বলেন, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের পর এইচ এম এরশাদ যখন কারারুদ্ধ হয়েছিলেন, তখন জি এম কাদের চাকরি ছেড়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। এরশাদ মুক্তির আন্দোলনে তার ভূমিকা অন্যতম। তিনি চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, দায়িত্ব পালন করেছেন মন্ত্রীর, কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। জি এম কাদের যড়যন্ত্রের স্বীকার উল্লেখ করে সেই মানববন্ধনে নেতারা বক্তব্যে বলেন, দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা হাতেগোনা কয়েকজন নেতার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন জি এম কাদের। আমরা হতবাক হয়ে লক্ষ্য করি যে, হঠাৎ করে তাকে কয়েকটি পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বিস্মিত হয়েছি যে দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ, এমন কথা বলা হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়ে তিনি ব্যর্থ, সেটি উল্লেখ করা হয়নি। তা ছাড়া তিনি পার্টিতে বিভাজন তৈরি করেছেন বলা হয়েছে। কিন্তু কী বিভাজন, কেমন করে সৃষ্টি করা হলো, তা বলা হয়নি। নেতারা বলেন, জি এম কাদেরকে সফল রাজনীতিবিদ বলছি এ কারণে যে, তার আচার-আচরণে সরলতা আছে। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সবাইকে তিনি তার পরিবারের সদস্য মনে করেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের জন্য তার দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এবং থাকবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে তার বাড়ির আঙিনা। তিনি নেতাকর্মীদের মুখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারেন কার কী সমস্যা।ওই মানববন্ধন শেষে জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এরশাদের বারিধারার বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে রংপুরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এরশাদ। বৈঠক শেষে মেয়র মোস্তফা বলেন, আমার সঙ্গে একান্তে চেয়ারম্যানের আট মিনিট কথা হয়েছে। স্যার (এরশাদ) আমাকে বলেছেন, তুমি যখন বলছ, করে দেবো। আমার ধারণা, দুই-এক দিনের মধ্যেই কাদের ভাইকে (জি এম কাদের) কো-চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হবে। তিনি আরও বলেন, কিছু দালাল এরশাদকে কাদের ভাই সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে। এর পর রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়ার মুখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জি এম কাদেরকে স্বপদে ফেরিয়ে আনেন। জাপা সূত্র জানায়, জি এম কাদেরকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পেছনে জাতীয় পার্টির পাঁচজন নেতার হাত আছে বলে মনে করেন অনেকই। এদের মধ্যে চারজনই আওয়ামী লীগের বা ক্ষমতাসীনদের পছন্দের লোক বলে দলে পরিচিত। একজন এরশাদের ঘনিষ্ঠ, যাকে সরকারপিন্থদের অনেকেই পছন্দ করেন না। এরশাদের বনানী কার্যালয়ে বসেন এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, জি এম কাদেরের সঙ্গে আ.লীগের একটি অংশের সম্পর্ক অনেক দিন ধরেই ভালো যাচ্ছিল না। -ডেস্ক