(দিনাজপুর২৪.কম) ঈদ আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ। ছুটি কাটিয়ে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন সড়ক, নৌ ও রেলপথে ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল শনিবার যেন রাজধানী অভিমুখে মানুষের ঢলে নেমেছিল। বলাই যায়, আজ থেকে স্বরূপে ফিরবে ঢাকা। তবে ফিরতি পথে কম ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে না লোকজনকে। যানজট, রাস্তার বেহাল দশার কারণেই এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফেরার পথে এবার বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে কর্মস্থলে ফেরা লোকজনের। তাদের বর্ণনায় ওঠে এসেছে সেই ভোগান্তির চিত্র। ৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে ১৩-১৮ ঘণ্টা। রাস্তায় যথেষ্ট পুলিশ থাকলেও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী সব রাস্তার বেহাল দশা ও ব্যবস্থাপনার অভাবকেই দায়ী করলেন যাত্রীরা। ফেরি সংকট আর নাব্যতার কারণে পাটুরিয়া ঘাটে ৬-৮ ঘণ্টা অপেক্ষারও খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহী ও দিনাজপুর রুটের গাড়ি যমুনা সেতু এলাকায় ৪০ কিলোমিটার যানযট লেগে ছিল। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, বরাবরই ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় এই ভোগান্তি হয়। কিন্তু ফেরার পথে এরকম এর আগে কখনো হয়নি।

গতকাল সকালে গাবতলীতে নামা রাইসুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী থেকে ১৮ ঘণ্টা জার্নি শেষে ঢাকায় ঢুকতে পারলাম। সাধারণত রাজশাহী থেকে আসতে সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। রংপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে সপরিবারে ফিরেছেন রেদওয়ানুল। তিনি বলেন, এত ভয়ংকর পরিস্থিতি ঈদের আগে দেখা যেত। কারণ লক্কড়ঝক্কড় গাড়িগুলোও ঘরমুখী মানুষকে নিয়ে হাইওয়েতে নেমে পড়ত। ঈদ শেষে ফেরার সময় এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি পড়িনি। গত ১৫ বছর ঈদে যাতায়াত করছি। যাওয়ার সময় যে ভোগান্তি হয়, সবাই একসঙ্গে রওনা করে বলে এমন হয় বলে মেনে নিতাম। কিন্তু ফেরার সময়ও দেখলাম লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি যেগুলো রাজধানীতে চলাচল করে সেগুলোও মহাসড়কে নেমে পড়েছে। আর রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ।

ঈদ শেষে ঘরে ফেরার এমন ভোগান্তি আগে হয়নি উল্লেখ করে শাহরিয়ার রমি বলেন, ‘কুমারখালি থেকে শুক্রবার রাত ১০টায় ছেড়ে আসা গাড়ি দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছায় রাত ১২টায়। ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঘাট পার হতে পারি। এরপর সকাল আটটার দিকে ধামরাইয়ে এসে আবারও জ্যামের কারণে আটকে যায় গাড়ি। ঢাকায় এসে নামি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে।’ ৫ ঘণ্টার রাস্তা প্রায় ১৩ ঘণ্টা জার্নি করে তিনি কর্মস্থলে ফিরেছেন।

এদিকে, রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের চিত্রটি ভিন্ন। ঈদ পরবর্তী সময় ফিরতি ট্রেনগুলোই থাকে কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু এবারের দেখছি ভিন্ন চিত্র। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রত্যেকটি ট্রেনে ছিল না তিল ধারণের জায়গায়। একই অবস্থায় ফিরতি ট্রেনগুলোর। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) ভিড় ছিল সর্বাধিক। আর ভিড়ের কারণে রংপুর, নীলসাগর ও চিত্রাসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর পৌঁছেছে। কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি স্টেশনে যাত্রী তুলতে বেশি সময় লাগছে। এ কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। তিনি জানান, কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ৩১টি আন্তনগরসহ ৬৭টি ট্রেন চলাচল করছে।

নৌপথে যখন কর্মস্থলগামী মানুষের উপচেপড়া ভিড় ও নৌযানগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিলাস বহুল লঞ্চের শৌখিন যাত্রীদের সিংহভাগই আকাশ পথে পাড়ি জমিয়েছেন কর্মস্থলের উদ্দেশে। সরকারি-বেসরকারি দুটি বিমান কোম্পানি ফ্লাইট ও ভাড়া বৃদ্ধি করেও যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পারেনি। সরকারি ও বেসরকারি বিমানের দুটি ফ্লাইটেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় কর্মস্থলগামীরা যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক মো. আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকায় স্পেশাল সার্ভিসে আরো যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা। তিনি জানান, ঈদ পরবর্তী দিনগুলোর মতোই সমসংখ্যক লঞ্চ বরিশাল নৌবন্দর থেকে যাত্রী পরিবহন করবে।

অন্যদিকে, কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় এক সপ্তাহ পর রাজধানীর কিছু কিছু জায়গায় যানজটের দেখা মিলেছে। এতো হয়রানি পার করে রাজধানীতে ঢুকেও টেকনিক্যাল, আগারগাঁও, মিরপুর, আরামবাগ, পান্থপথ এলাকায় যানজটে পড়তে হয়েছে। -ডেস্ক