মাহবুবুল হক খান (দিনাজপুর২৪.কম) আগামী ৬-৮ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় অনুষ্ঠিতব্য তাবলীগ জামাতের ইজতেমার অনুমতি প্রদান না করার দাবীতে র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে দিনাজপুর ওলামা-মাশায়েক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় জেল রোডস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে দিনাজপুর ওলামা-মাশায়েক কমিটির সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমীর নেতৃত্বে এক র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান। সেখান থেকে বের হয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন ওলামা-মাশায়েক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইদানিং তাবলীগ জামাতের দিল্লি মার্কাজের মাওলানা সাদ হাফিজাহুল্লাহু ইমান আকিদার খেলাপ এবং বিভিন্ন মাসায়েল সংক্রান্ত বয়ানাতের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের ভুলপথে পরিচালিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছেন। উল্লেখিত বিষয়সমূহের ব্যাপারে উপ-মহাদেশের দ্বীনি মাদরাসা দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে তাঁকে (মাওলানা সাদ) সংশোধনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর অনড় অবস্থানের কারণে ২০১৮ সালের ২৮ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠে ওজাহাতি জোড়ে দিল্লি মার্কাজের অনসুরণ তথা অনুগত হয়ে মাওলানা সাদ’র এতায়াত বা আনুগত্য করা যাবে না মর্মে সকলেই একমত হয়েছেন।
কিন্তু কাকরাইলের শুরার কিছু সাথী আলাদা হয়ে দীর্ঘদিনের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিজ মর্জি মাফিক তাবলীগের কাজ করছেন। কাকরাইল মসজিদের কার্যক্রমকে অকার্যকর করতে তাঁরা বিভিন্ন জেলায় ইজতেমা করাসহ বিভাগীয় মার্কাজ নাম দিয়ে রংপুর এবং অন্যান্য জেলা থেকে জামাত বের করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের জেলা ইজতেমা নাম দিয়ে ফুলবাড়ী থানায় ইজতেমার আয়োজন করেছেন।
দিনাজপুর জেলার জিম্মাদার সাথী এবং ওলামায়ে কেরামগণ এ ব্যাপারে ওয়াকিফহাল নন। যেখানে জমহুর ওলামায়ে কেরাম (অধিকাংশ আলেম) দিল্লির মাওলানা সাদকে মানা যাবে না এবং মাওলানা সাদ’র পক্ষের বাংলাদেশের বিভিন্ন শুরার সাথীদের পরামর্শও অবৈধ মর্মে ঐক্যমতের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিধায় ফুলবাড়ীর ইজতেমা অবৈধ পরামর্শের ফসল। এর দ্বারা সাধারণ মুসলমানদেরকে দ্বীনের নামে ইমান-আকিদার ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে। ফল স্বরুপ মুসলমানগণ কুফরী-কালামের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষনপূর্বক জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে ফুলবাড়ীতে ইজতেমা অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান না করার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট দাবী জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় ও র‌্যালিতে দিনাজপুর ওলামা-মাশায়েক কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম, মাওলানা খায়রুজ্জামান, সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হাই, মাওলানা মোহাম্মদ আশফাক, মাওলানা মোহাম্মদ শোয়াইব, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা মো. বাবর আলী, মাওলানা মো. নুর আলমসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম ও তাবলীগ শতাধিক জামাতের প্রায় তিন সার্থী উপস্থিত ছিলেন।