(দিনাজপুর২৪.কম) দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়ে এখন ফুরফুরে মেজাজে আছে টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় এসে দেশে-বিদেশে চাপের মুখে পড়ে তারা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অব্যাহত আন্দোলন ও বিদেশীদের চাপের মুখে একে একে সমস্যা সমাধান করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সাফল্য প্রমাণ করে ক্ষমতাসীণরা। সম্প্রতি তাদের সাফল্যের ঝুড়িতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর যুক্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একে সরকারের সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার আরেক ধাপ বলে মনে করছে ক্ষমতাসীণ দলের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে সফররত প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিদায়ী ভাষণে উন্নয়নের পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকার ঘোষণা নিজেদের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। মোদি তার ভাষণে বলেছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার মিল রয়েছে আমিও উন্নয়ন চাই, তিনিও উন্নয়ন চান। শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ কার্যকরে আমরা পাশে থাকব। আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই আমরা একসাথে চলতে জানি।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদীর বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, মোদী খালেদাকে বলেছেন আমরা সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে, কিন্তু আমরা জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। মোদীর এ কথায় উৎফুল্ল ক্ষমতাসীণ দলের নেতারা বলছেন, তাঁর এ কথা সরকারের পক্ষে শুধু ইতিবাচকই নয়, বরং বিএনপি আন্দোলনের নামে যে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস করেছে তা প্রত্যাখ্যান করারই নামান্তর। এতে করে বিএনপি বুঝে গেছে যে ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন হবেনা। কোন বিচার শালিশ করে আর দাবি আদায় করতে পারবেনা।

মোদীর এ সফরে দু দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ ২২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টে স্থুল সীমানা চুক্তি পাশ হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশ ১১টি ছিটমহল পেয়েছে। এছাড়া সমুদ্রসীমা মামলায় জয় তো রয়েছেই। এ সবই এ সরকারের কুটণৈতিক সফলতার অংশ ও শেখ হাসিনার দুরদর্শীতার ফসল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারে মোদীর সফরে তিস্তা চুক্তির সমাধান না হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরবর্তী ভারত সফরে এর বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ আজ একটি পরিপূর্ণ মানচিত্র পেয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টে স্থুল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে।

এ সাফল্য প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বাংলাদেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার সঙ্গে চলার অঙ্গীকার করেছেন। বিএনপি এখন তা অনুধাবন করতে পেরেছে। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপির ধ্বংসাতœক ও জঙ্গীবাদী রাজনীতি প্রত্যাখান করেছেন। বিএনপির রাজনীতি যেভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাখাত হয়েছে সেভাবে খালেদা জিয়াও দেশের মানুষের কাছে প্রত্যাখাত হবেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, মোদির ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন বাতাবরণ সৃষ্টি হলো। আগামীতে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের কোনো সরকার পারেনি নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও ভারতসহ সবার সঙ্গে কানেকটিভিটি করতে। আমরা নেপাল এবং ভুটানের সাহায্যে জলবিদ্যুৎ তৈরি করতে পারব। ওই বিদ্যুৎ আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে পারব। এটা দুই দেশের জন্য বিশেষ করে আমাদের জন্য মাইলফলক।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বিএনপি ভারত বিরোধী দল নয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে তারা যে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়েছে তা প্রমাণ হয়ে গেছে। তারা এখন হতাশায় ভুগছে কারণ তারা বুঝে গেছে ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন হবেনা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-আলম লেনিন ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে এই সফর অনেক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সমুদ্র সীমান্ত আগেই নিশ্চিত হযেছে। এ সফরের মাধ্যমে ভুল পথের সীমান্তও নিশ্চিত হল।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশ-বিদেশে চাপের মুখে পড়ে। কিন্তু তারা দমে যাননি তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কুটণৈতিক সাফল্য উন্নয়নের সব বাঁধাকে অতিক্রম করে।

এ সময়গুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকা, জাপান, চীণ, ভারত ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। বিদেশে নিজেদের সরকারের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরতে সক্ষম হোন। এমনকি এ সময়ের মধ্যে মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধের জের ধরে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে সমুদ্রসীমা অর্জণ করেন। সম্প্রতি স্থুল সীমান্ত চুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনাও দেওয়া হয়। এগুলোকে পুঁজি করে আগামীতে উন্নয়ন প্রচারণায় ও নামার পরিকল্পনা আছে তাদের।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী সেপ্টেম্বরে চীণের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং আসছেন বাংলাদেশ সফরে। এ সফরে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড শিরোনামে একটি আঞ্চলিক কানেকটিভিটি স্থাপনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে চীন। এরপর নভেম্বরে আসার কথা রয়েছে সেই দেশের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের। প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের পর আওয়ামী লীগ এখন চীনের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সফরের অপেক্ষায়।

এদিকে আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসবেন বলেও জানা গেছে। বিশ্ব মোড়লদের এ সব সফর দেশের উন্নয়নের নতুন নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীণ দল আওয়ামী লীগের নেতারা। -(ডেস্ক)