(দিনাজপুর২৪.কম)এ বছর বাংলাদেশে সাদকাতুল ফিতরার হার একজন ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ১৬৫০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১৪৩৫ হিজরি সনের ফিতরা ছিল মাথাপিছু সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা।
বুধবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সভাকক্ষে ফিতরা নির্ধারণী সভায় এর হার নির্ধারণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন দিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মাওলানা এ এম এম সিরাজুল ইসলাম।
সভায় জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়— ইসলামি শরিয়াহ মতে—আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির, যব ইত্যাদি পণ্যের যেকোনো একটির মাধ্যমে ফিতরা দেয়া যায়।
আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে মাথাপিছু এক কেজি ৬৫০ গ্রাম সমপরিমাণ মূল্য আদায় করতে হবে। এর বর্তমান বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৬০ টাকা। এটিই সর্বনিম্ন। কেউ খেজুর দিয়ে ফিতরা আদায় করতে চাইলে তিন কেজি ৩০০ গ্রাম সমপরিমাণ পণ্য দিতে হবে। এর বাজারমূল্য ১৬৫০ টাকা। কিশমিশ দ্বারা আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম—বাজারমূল্য ১২০০ টাকা। পনির দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম—বাজারমূল্য ১৬০০ টাকা। যব দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম—বাজারমূল্য ২০০ টাকা।
সভায় এ এম এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব পণ্যের কথা বলা হয়েছে, প্রত্যেক মুসলমান নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এর যেকোনো একটি পণ্য বা তার বাজারমূল্য দিয়ে সাদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। তবে পণ্যগুলোর স্থানীয় খুচরা বাজারমূল্যের তারতম্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।’
উল্লেখ্য, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী—প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। নাবালক ছেলে-মেয়ের পক্ষ থেকেও এ ফিতরা দিতে হয়। আর তা দিতে হয় ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই।
এ দিকে, ইসালামিক ফাউন্ডেশনের দিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ও জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা এ এম এম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়ার অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দীন আহমেদ, গোপালগঞ্জের গহরডাঙ্গা মাদরাসার মোহতামিম মুফতি মাওলানা রুহুল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাইয়েত আবদুল্লাহ আল মারুপ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহ বাটি নদভী, ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানসানুল হক, জামিয়া আরাবিয়া ফরিদাবাদের ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মতিউর রহমান, জামিয়া আরাবিয়া ফরিদাবাদের সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি মো. নূরুল আমিন প্রমুখ।(ডেস্ক)