(দিনাজপুর২৪.কম) নাম তার এছহাক আলী মণ্ডল। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার তিনি। আর দশটা সরকারি অফিসের মতোই তার অফিস। টেবিলের ওপর ফাইলের স্তুপ। হাতের বাম পাশে টেবিলের একটি ড্রয়ার। ড্রয়ারে কাড়ি কাড়ি টাকা পড়ছে, আর তিনি দ্রুত স্কাক্ষর করছেন একেকটি ফাইল। গুণে গুণে বুঝে নিচ্ছেন ফাইল পিছু টাকা। তবে সে টাকা ঘুষের। ড্রয়ার ভর্তি হলে কিছু টাকা পকেটেও ঢোকাচ্ছেন তিনি।এমনই একটি ভিডিওচিত্র গত বৃহস্পতিবার (২২মার্চ) থেকে ভাইরাল হয়ে ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। অফিসটা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়। ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, এছহাক আলী মণ্ডলের সামনে ফাইলের স্তূপ। তিনি দ্রুতগতিতে প্রতিটি ফাইল সই করার আগে গুণে গুণে ঘুষ নিচ্ছেন। তার বাম পাশ থেকে এক ব্যক্তি ফাইল এগিয়ে দিচ্ছেন। আর প্রতিটি ফাইলের সঙ্গে টাকা ড্রয়ারে রাখছেন তিনি।

এছহাক আলী মণ্ডলের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশের পর জেলাজুড়ে চলছে সমালোচনা। ফেসবুকেও অজস্র শেয়ার হচ্ছে এ ভিডিও। সেখানে নানা জন নানা রকম মন্তব্য করছেন।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে আড়াইহাজারে রেজিস্ট্রি নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার সঙ্গে দলিল লেখকদের বিরোধ চলে আসছিল। দলিল লেখকদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো ফাইল ও দলিল সই করে না সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মন্ডল। তবে এ এছহাক আলীর পাল্টা অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষক কয়েকজন দলিল লেখক অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

দুই পক্ষের মধ্যকার এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রকাশ পায় আলোচিত ভিডিওটি। যেখানে সাব-রেজিস্ট্রারকে দেখা গেছে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ করতে। তিনি ঘুষ নিচ্ছেন আরেকদিকে স্বাক্ষর করছেন। আবার টেবিলের ড্রয়ারের টাকায় ভরে গেলে তা নিয়ে নিজের পকেটেও ঢোকাচ্ছেন।

উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সেক্রেটারি নূরুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, আড়াইহাজারের সাব-রেজিস্ট্রার গত দুই মাস আগে বদলি হয়। যে কারণে জেলার বন্দর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মণ্ডলকে সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সেখানে যোগ দেয়ার পর থেকেই প্রতিটি দলিলের জন্য মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবি করে দলিল লেখকদের কাছে। তার দাবিকৃত ঘুষ না দিতে পারলেই সেই দলিল আর রেজিস্ট্রি হয় না। তার ঘুষ চাওয়া ও অন্যান্য অনিয়মের কারণে দেড় শতাধিক দলিল লেখক গত বুধবার থেকে কর্মবিরতি পালন করছে।

তবে সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মণ্ডল দলিল লেখকদের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দলিল লেখক সমিতির একটি অংশের অবৈধ চাপে নতি স্বীকার না করায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার সাবেকুর নাহার বলেন, “গত বৃহস্পতিবার রাতেই আমি ভিডিওটা দেখেছি। যেহেতু শুক্র ও শনি দুইদিন বন্ধ সেহেতু রোববার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” -ডেস্ক