28169_Farid-Ali-1

(দিনাজপুর২৪.কম) অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। তাকে রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিসিইউতে রাখা হয়েছে। ফরিদ আলীর ছোট ছেলে ইমরান আলী জয় রবিবার দুপুরে মানবজমিনকে জানান, তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। ফরিদ আলীর দুটি পা অবস হয়ে গেছে। ফুসফুসে পানি জমেছে এবং হার্টের রেট এখন ২৫ শতাংশ। তিনি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল কাদের আখন্দের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জয় বলেন, গত ১৯শে আগস্ট আমরা বাবা ও মায়ের ৪১তম বিবাহবার্ষিকীর আয়োজন আয়োজন করছিলাম। এদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ বাবা চিৎকার করে ওঠেন। তার সারা শরীর ঘামতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বাবাকে ওয়ারী বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানের ডাক্তাররা বাবার আগের প্রেসক্রিপশন দেখেন। কয়েক মাস আগে বাবার চিকিৎসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হয়েছিল। ডাক্তাররা সেই প্রেসক্রিপশন দেখে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। বাবাকে ওই দিনই সেখানে ভর্তি করানো হয়। এখন সিসিইউতে রাখা হয়েছে। পা দুটো অবস এবং ফুসফুসে পানি জমেছে। তিনি এখন হাসপাতালের সিসিইউতে ৬ নং বেডে আছেন। এখন তার শারীরিক অবস্থা মোটেই ভাল নয়। আমরা বাবার জন্য সবার দোয়া চাই। অভিনেতা ফরিদ আলীর বয়স এখস ৭২ পেরিয়ে। একাডেমীক শিক্ষায় তেমন অগ্রসর না হয়েও তিনি অভিনয় জগতে দেখিয়েছেন পারদর্শিতা। কৌতুক অভিনয়ে তিনি দর্শকমনে এখনও দাগ কেটে রয়েছেন। বিশেষ করে ‘টাকা দেন দুবাই যাব, বাংলাদেশে থাকবো না’ এই সংলাপটির সঙ্গে যারা পরিচিত তারা এক বাক্যেই উচ্চারণ করবেন অভিনেতা ফরিদ আলীর নাম। শুধুমাত্র অভিনয় নয়, নাটক লেখা ও নির্দেশনায়ও সিদ্ধ হস্ত ছিলেন এই শিল্পী। শহীদুল আমীনের লেখা ‘কনে দেখা’ নাটকে একটি মাত্র নারী চরিত্রে অভিনয় করে ১৯৬২ সালে তিনি অভিনয় যাত্রা শুরু করেন। অসংখ্য মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। প্রফেসর মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘একতলা দোতলা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম টিভিতে দৃশ্যমান হন। তার নিজের লেখা প্রথম টিভি নাটক হলো-‘নবজন্ম’। অভিনেতা ফরিদ আলীর চলচ্চিত্রে পদার্পন ১৯৬৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ধারাপাত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। তখন থেকে একাধারে বহু ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জীবন তৃষ্ণা, শ্লোগান, চান্দা, দাগ, অধিকার ইত্যাদি।