(দিনাজপুর২৪.কম) নাশকতার আরও তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৬ সপ্তাহের জামিন দিয়েছে আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ সোমবার এই আদেশ দেয়। এর ফলে এই বিএনপির নেতার মুক্তি পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার জন্য ফখরুলকে ৬ সপ্তাহের এই জামিন দেয়া হয়েছে। এই জামিনের মেয়াদ শেষে ফখরুলকে আবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
এর আগে আদালতের নির্দেশে ফখরুলের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের দেয়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।
নাশকতার কাজে উস্কানি, প্ররোচনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পল্টন এলাকায় হরতালের মধ্যে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গত ৪ ও ৬ জানুয়ারি এসব মামলা দায়ের করে পল্টন থানা পুলিশ। গত ২১ জুন ওই তিন মামলায় ফখরুলকে জামিন দেন বিচারপতি মো. রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ২৯ জুন জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদনটি করেন রাষ্ট্রপক্ষ। পরে সেটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত।
গত ২ জুলাই শুনানি শেষে ফখরুলের জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য ৫ জুলাই দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। কিন্তু ওই দিন আদেশ না দিয়ে ৮ জুলাই আদেশের দিন পুনর্র্নিধারণ করেন। একই দিনের মধ্যে ফখরুলের অসুস্থতার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। ৮ জুলাই মেডিকেল প্রতিবেদন না আসায় আপিল বিভাগ বলেছিলেন, মেডিকেল প্রতিবেদন এলে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে। ৯ জুলাই ফখরুলের অসুস্থতার বিষয়ে মেডিকেল প্রতিবেদন জমা দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়, মির্জা ফখরুলের যে শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তার সুচিকিৎসা দেশেই করা সম্ভব, দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
এরপর ফখরুলের চিকিৎসায় নতুন করে মেডিকেল বোর্ড গঠন ও রোববার (১২ জুলাই) পুনরায় প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে তার জামিনের বিষয়ে আদেশ ফের পিছিয়ে সোমবার পুনর্র্নিধারণ করেন। গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন।(ডেস্ক)