(দিনাজপুর২৪.কম) শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে। মঙ্গলবার সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রার্থী ড. আরিফ আলভি। আগে থেকেই পিটিআইকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল। তারা চাইছিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সব বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাদের একক প্রার্থী থাকবে। কিন্তু মধ্যখানে তাতে ফাটল ধরে। ফলে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করে এজাজ আহসানকে। ওদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) ভর করে জমিয়তে উলেমায়ে ইসলাম (জেইউআই-এফ)-এর ওপর।

ওদিকে শাহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মাওলানা ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, তার ওপর আস্থা রাখায় ও পিপিপি বাদে অন্য বিরোধী দলগুলোর যৌথ প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনীত করায় তিনি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা পিএমএলএন ও অন্য ১০টি দল যৌথভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। বিরোধী দলগুলোর একক প্রার্থী নির্ধারণে পিপিপি নেতৃত্বকে রাজি করাতে এবং তাদের প্রার্থী প্রত্যাহারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমরা। তবে মজার বিষয় হলো, সাংবাদিকদের সঙ্গে মাওলানা ফজলুর রহমান যখন কথা বলছিলে তখন তার সঙ্গে ছিলেন না শাহবাজ শরীফ। এর পরিবর্তে তিনি তার ছেলে হামজা শাহবাজ ও পিএমএলএন-এর খাজা সাদ রফিককে পাঠিয়ে দেন। এ সময় মাওলানা ফজলুর রহমানের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি কেন পিপিপির প্রার্থীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন না। জবাবে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, এটা আমাদের জন্য খুব জটিল বিষয়। আমাদের সঙ্গে আছে পিএমএলএন, মুত্তাহিদা মজলিশে আমলের ৫টি দল ও অন্য ৫টি দল। সে হিসেবে পিপিপির পক্ষে তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করাটা খুব সহজ।

প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে পিপিপি তার অবস্থানে অনড় ছিল। এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, এর ফলে পিটিআই প্রার্থীকে সুবিধা দিয়েছে পিপিপি। পিপিপির রাজনীতির জন্য এটা মোটেও ভাল নয়। আমি পিপিপির নেতৃত্বকে বলেছি, আমাকে একক প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে। কারণ, এর মধ্য দিয়েই বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

হামজা শাহবাজ বলেন, বিরোধী দলগুলোর যৌথ প্রার্থী হলেন ফজলুর রহমান। এ জন্য পিপিপি ও অন্য দলগুলোকে আমাদের কাতারে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। সাদ রফিক বলেন, একজন একক প্রার্থীর বিষয়ে যদি বিরোধী দলগুলো বিভক্ত থাকে তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবেন আসিফ আলি জারদারি ও পিপিপি।  -ডেস্ক