(দিনাজপুর২৪.কম) প্রায় পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে বেইজিং সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকায় আসেন। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অবস্থায় এসেছে অনেক পরিবর্তন।

সেই সঙ্গে চলতি বছর টানা তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছেন এবং সর্বোপরি রোহিঙ্গা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই বেইজিং যাচ্ছেন, যেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য তৈরি চীন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এছাড়া সরকারপ্রধানের সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতাদের কাছে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. মোমেন এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ১ থেকে ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করবেন। এর মধ্যে ১ থেকে ৩ জুলাই চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভায় যোগ দেবেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেট হলে অভ্যর্থনা জানানো হবে। অভ্যর্থনা শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের আলোকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।

তিনি আরো জানান, চীন সফরকালে আগামী ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি ঝংসুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা করেই বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ সহযোগিতা নেওয়া হয়। চীনের ক্ষেত্রেও তেমন অবস্থান আমাদের। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সব কিছুই বিবেচনায় নিয়ে থাকি।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট চীনের কাছে তুলে ধরা হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন আমাদের পাশেই রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।