ছবি-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন কঠিনের অভিযোগে পরীক্ষা বর্জন ছাড়াও কেন্দ্র ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ঢাকার ১০টি কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তবে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরীক্ষার্থীরা।

বেশ কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের  ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, করোনার প্রকোপের কারণে লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে শুধু ভাইভার মাধ্যমে আইনজীবী সনদ দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করায় প্রশ্ন অস্বাভাবিক কঠিন করা হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, নির্ধারিত বইয়ের ভেতর থেকে প্রশ্ন করা হয়নি।

শনিবার সকালে রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারে ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে পরীক্ষা শুরু হলে প্রথমেই কিছু শিক্ষার্থী ‘প্রশ্ন ঠিক হয়নি’ বলে অভিযোগ করেন। এরপর তাদের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হন। এক পর্যায়ে তারা সিট থেকে উঠে পড়েন। এ নিয়ে পরীক্ষা হলে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় কিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করলেও বাকিরা তাদের অনুৎসাহিত করে। তারা পরীক্ষার্থীদের খাতা টেনে নিয়ে বাইরে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরীক্ষার্থী বলেন, বার কাউন্সিল যে প্রশ্ন করেছে তা কোন প্রশ্নের মাপকাঠিতেই পড়ে না। এটা কোনো প্রশ্নই হয়নি। জুডিশিয়ারির পরীক্ষায় এমন প্রশ্ন হতেই পারে না। এ কারণে আমরা পরীক্ষা না দিয়ে বের হয়ে গেছি। কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে চাইলেও তাদেরকে বাকিরা ধরে বের করে দিয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা হলের বাইরে অবস্থান করছে।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে মোহাম্মদপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রেও। সেখানে পরীক্ষাকেন্দ্রে ভাঙচুরও করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে দেখা গেছে, কোনো রকম তল্লাশি ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশ করার কারণে অনেকে বই নিয়েও ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রে একদল পরীক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যারা লেখা শুরু করেছিলেন তারাও পরীক্ষা দেয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। অনেকের খাতা, প্রবেশপত্র ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দেড় ঘণ্টার মতো বন্ধ থাকার পর আবার পরীক্ষা শুরু হয় মহানগর মহিলা কলেজে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একজন পরীক্ষার্থীকে বাহিরে থেকে পুরো খাতা লিখে কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। কিন্তু তাকে কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

যোগাযোগের পর পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও এত পৃষ্ঠা কিভাবে লিখলেন এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি এই শিক্ষানবিশ আইনজীবী। তার মতো অনেকেই বাহিরে গিয়ে খাতায় লিখে এনেছেন। তাদের কাউকেই খাতা নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই পরীক্ষার্থী বলেন, ঝামেলা শুরুর পর অনেকে কেন্দ্র থেকে খাতা নিয়ে বের হয়ে গেছে। আমিও বের হয়ে গেছিলাম। এখন পরীক্ষা হচ্ছে শুনে আসছি কিন্তু ঢুকতে দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে বার কাউন্সিলের সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা দুইটি হলে এ রকম ঘটনা শুনতে পেয়েছি। পরীক্ষা চলবে। যারা পরীক্ষা না দেয়ার আন্দোলন করেছিল, তারাই এমনটি করছে।

সার্বিক বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বসেই সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত পরীক্ষা চলবে।

পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিবে৷ যারা দিচ্ছে না সেটা তাদের বিষয়৷ তবে যেসব জায়গায় ঝামেলা হয়েছে সেখানকার বিষয় নিয়ে কি করা যায় আমরা ভেবে দেখবো।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবীদের সনদ পেতে নৈর্ব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আবার ওই তিন ধাপের যেকোনো একটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা একবার উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী পরীক্ষায় তারা দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তবে দ্বিতীয়বারেও অনুত্তীর্ণ হলে তাদের পুনরায় শুরু থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

সে অনুসারে ২০১৭ সালের ৩৪ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে লিখিত পরীক্ষায় দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো বাদ পড়া তিন হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী এবং ২০২০ সালে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মধ্যে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আট হাজার ৭৬৪ শিক্ষার্থী মোট ১২ হাজার ৮৫৮ জন সনদপ্রত্যাশী এবার লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। -ডেস্ক রিপোর্ট